বাবান আদক, কলকাতা: ফিফার (FIFA) দ্বিচারিতা ফাঁস! আমেরিকার জন্য এক নিয়ম, ফ্রান্সের জন্য অন্য, ক্ষমতার কাছেই কি নতজানু ফুটবল নিয়ামক সংস্থা? ফিফার অন্দরমহলে যে দল, সুযোগ-সুবিধা এবং রাষ্ট্রনেতার মুখ দেখে নিয়ম বদলায়, তা আরও একবার দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে গেল। বিশ্বের সর্বোচ্চ ফুটবল নিয়ামক সংস্থার এই নির্লজ্জ দ্বিচারিতার চরম শিকার হতে হলো দিদিয়ের দেশঁর ফ্রান্সকে।
আমেরিকার ফুটবলার ফোলারিন বালোগুন লাল কার্ড দেখার পর খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ফোনে ম্যাজিকের মতো সাসপেনশন প্রত্যাহার করে নিয়েছিল ফিফা। ট্রাম্পের সেই দেখানো পথে হেঁটেই নিজেদের দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার মাইকেল ওলিসের হলুদ কার্ড বাতিলের ন্যায্য আবেদন করেছিল ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন। কিন্তু কোথায় কী! আমেরিকার জন্য যে ফিফা নিয়মের বাইরে গিয়ে লাল কার্ড বাতিল করতে পারে, সেই ফিফাই ফ্রান্সের আবেদন পত্রপাঠ খারিজ করে দিল।
Also Read | এশিয়ার মঞ্চে কঠিন পরীক্ষার মুখে ইস্টবেঙ্গল! ১২ অগাস্ট প্রতিপক্ষ কুয়েতের ক্লাব
প্যারাগুয়ের ফুটবলার মাতিয়াস গালার্জাকে মুখে আঘাত করার কাল্পনিক অভিযোগে ওলিসেকে হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন রেফারি। অথচ পরে টিভি রিপ্লেতে স্পষ্ট দেখা যায়, ওলিসে কেবল গালার্জার জার্সি টেনে ধরেছিলেন, কোনোভাবেই তাঁকে আঘাত করেননি। ফ্রান্সের অকাট্য যুক্তি ছিল ফাউলটি আদৌ হলুদ কার্ড দেখার মতো ছিল না। আর যেখানে খোদ ফিফা এক রাষ্ট্রনেতার চাপে বালোগুনের সাসপেনশন প্রত্যাহার করতে পারে, সেখানে ওলিসের এই অন্যায় হলুদ কার্ড বাতিল হবে না কেন?
কিন্তু ফ্রান্সের কোনো যুক্তিরই ধার ধারেনি ফিফা। মরক্কোর বিরুদ্ধে মেগা কোয়ার্টার ফাইনালে নামার আগে ফরাসি কোচ দেশঁ হতাশ কণ্ঠে জানিয়েছেন, “ওলিসের হলুদ কার্ড বাতিল করা হয়নি। ফিফা তাদের অনড় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছে। ওকে এই কার্ডের ঝুঁকি নিয়েই মাঠে নামতে হবে।”
Also Read | জোরকদমে দল গঠন! ইমামির বিদায়ের পর ইস্টবেঙ্গলের ভরসা জুপিটার,
ফিফার এই পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ ফ্রান্সের জন্য এক বিশাল মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বিশ্বকাপে এমবাপেদের আক্রমণের মূল কারিগর এই ওলিসে। নিজে গোল না করলেও, সতীর্থদের দিয়ে ৫টি গোল করিয়েছেন তিনি। মরক্কোর বিরুদ্ধে যদি দুর্ভাগ্যবশত তিনি আরেকটি হলুদ কার্ড দেখেন, তবে সম্ভাব্য সেমিফাইনালে স্পেনের বিরুদ্ধে তাঁকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে ফ্রান্সকে।
সব মিলিয়ে এই ঘটনা একটা জ্বলন্ত প্রশ্ন তুলে দিল ফুটবলের নিয়ম কি তবে সবার জন্য সমান নয়? নাকি ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রের রক্তচক্ষুর কাছে ফিফার নিয়মকানুন স্রেফ কাগুজে বাঘ?




