আর্জেন্টিনার রেফারিরা কি সমস্যায় ফেলবেন? জবাব দিলেন ফ্রান্স কোচ দেশঁ

ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচে পাঁচ আর্জেন্টিনীয় ম্যাচ অফিসিয়াল নিয়েও উদ্বিগ্ন নন দিদিয়ের দেশঁ। রেফারিদের পেশাদারিত্বের উপর পূর্ণ আস্থা রাখার বার্তা দিলেন তিনি।

FIFA World Cup didier-deschamps-argentine-referees-france-morocco

বিট্টু দত্ত, কলকাতা: বিশ্বকাপের (FIFA World Cup) শেষ পর্যায়ে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন রেফারিরাও। একাধিক ম্যাচে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ঘিরে সমর্থক ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক চলছে। এই আবহেই ফ্রান্স ও মরক্কোর কোয়ার্টার ফাইনালে দায়িত্বে থাকা পাঁচজন ম্যাচ অফিসিয়ালই আর্জেন্টিনার হওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে নিরপেক্ষতা নিয়ে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হওয়ায় বিষয়টি আরও বেশি নজর কেড়েছে।

২০১৮ সালের বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল আর্জেন্টিনা। আবার ২০২২ সালের ফাইনালে আর্জেন্টিনাই ফ্রান্সকে পরাজিত করে শিরোপা জেতে। সেই স্মৃতি এখনও টাটকা। ফলে অনেকেরই আশঙ্কা, আর্জেন্টিনার রেফারিদের উপস্থিতি কি ফরাসি ফুটবলারদের উপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ সৃষ্টি করবে?

FIFA World Cup didier-deschamps-argentine-referees-france-morocco
তবে ফ্রান্স শিবিরে এই নিয়ে কোনও উদ্বেগের ছাপ নেই। ম্যাচপূর্ব সাংবাদিক বৈঠকে কোচ দিদিয়ের দেশঁ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর দলের সমস্ত মনোযোগ প্রতিপক্ষ মরক্কোকে ঘিরেই। রেফারিদের সততা ও পেশাদারিত্বের উপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। দেশঁর মতে, মাঠে ফল নির্ধারণ করবে দুই দলের ফুটবল, ম্যাচ পরিচালনাকারীরা নন। এই বক্তব্যে ফুটবলের মূল দর্শনই প্রতিফলিত হয়েছে—খেলোয়াড়দের দায়িত্ব নিজেদের সেরাটা তুলে ধরা।

ফ্রান্সের দ্বিতীয় গোলরক্ষক রবিন রিসারও একই সুরে কথা বলেছেন। তাঁর মতে, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে যাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাঁরা নিশ্চয়ই সেই যোগ্যতা অর্জন করেই এসেছেন। অতীতের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা আবেগ পেশাদার রেফারিংয়ে প্রভাব ফেলবে বলে তিনি মনে করেন না।

আসলে সাম্প্রতিক বিতর্কই দেখিয়ে দিয়েছে যে রেফারির জাতীয়তা দিয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত বিচার করা যায় না। আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেসিয়ে। তাঁর বিরুদ্ধে আবার আর্জেন্টিনাকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। অর্থাৎ কোনও রেফারি নিজের দেশের স্বার্থে বা অন্য দেশের বিরুদ্ধে পক্ষপাত করবেন, এমন ধারণার বাস্তব ভিত্তি খুবই দুর্বল।

ফ্রান্স–মরক্কো ম্যাচে প্রধান রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ফাকুন্দো তেলো। সহকারী হিসেবে থাকবেন জুয়ান পাবলো বেলাত্তি ও গ্যাব্রিয়েল চেদ। চতুর্থ রেফারি এবং রিজার্ভ রেফারির দায়িত্বে থাকবেন যথাক্রমে দারিয়ো হেরেরা ও ক্রিশ্চিয়ান নাভারো। দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম অভিজ্ঞ ও কঠোর রেফারি হিসেবে তেলোর সুনাম রয়েছে। নিয়ম প্রয়োগে আপস না করার জন্য তিনি পরিচিত।

অতীতে তাঁর কিছু সিদ্ধান্ত অবশ্য বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কাতার বিশ্বকাপে পর্তুগাল–মরক্কো ম্যাচে তিনি একটি লাল কার্ড দেখিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন। আবার আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবলে এক ম্যাচে একাধিক লাল কার্ড দেখিয়ে কঠোরতার নজিরও গড়েছেন। তবু আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর অভিজ্ঞতা ও নিরপেক্ষতাই তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এনে দিয়েছে।

সব মিলিয়ে, রেফারিদের জাতীয়তা নয়, তাঁদের পেশাদারিত্বই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রান্স শিবিরও সেই বিশ্বাস নিয়েই মরক্কোর বিরুদ্ধে মাঠে নামতে প্রস্তুত।