কর্মীর ওপর ক্ষোভ উগরে দিলেন মমতা, সভামঞ্চেই সপাটে চড়

হাতে মাইক, সামনে উত্তেজিত ভিড়। দলের কর্মী-সমর্থকদের শান্ত করতে নিজেই পরিস্থিতি সামাল দিতে নেমেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই চেষ্টার মাঝেই আচমকা ঘটে যায়…

Mamata Banerjee Slaps TMC Worker While Trying to Control Crowd

হাতে মাইক, সামনে উত্তেজিত ভিড়। দলের কর্মী-সমর্থকদের শান্ত করতে নিজেই পরিস্থিতি সামাল দিতে নেমেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই চেষ্টার মাঝেই আচমকা ঘটে যায় এমন এক ঘটনা, যা মুহূর্তের মধ্যে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। কালীঘাটে তাঁর বাড়ির সামনে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে এক ব্যক্তিকে সপাটে চড় মারতে দেখা যায় তাঁকে। ঘটনার ভিডিও সামনে আসতেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে এবং শুরু হয় জোর চর্চা।

বারুইপুরের সাম্প্রতিক ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার রাস্তায় নেমেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে বিভিন্ন জায়গায় উত্তেজনা তৈরি হয়। তৃণমূলের অভিযোগ, কর্মসূচির সময় বিজেপি কর্মীদের তরফে বাধা দেওয়া হয়, মারধরের ঘটনাও ঘটে। পাশাপাশি জোরে স্লোগান ও গান বাজানোর অভিযোগও ওঠে। এই উত্তেজনার আবহে বেশ কয়েকজন তৃণমূল কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েন বলেও দাবি করা হয়।

এরপর অসুস্থ কর্মীদের একাংশ কালীঘাটে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে চান। সেই সময় কালীঘাটের বাড়ির সামনে বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থকের ভিড় জমে যায়। অসুস্থদের দ্রুত গাড়িতে তুলে হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা চলছিল। কিন্তু অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকে। নিরাপত্তাকর্মী ও দলীয় নেতাদের পক্ষ থেকে ভিড় সরানোর চেষ্টা হলেও তাতে বিশেষ ফল মেলেনি।

এই অবস্থায় নিজেই হাতে মাইক তুলে নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি উপস্থিত কর্মীদের শান্ত থাকার এবং রাস্তা ফাঁকা করে দেওয়ার অনুরোধ করতে থাকেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, বারবার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও কয়েকজন সামনে ভিড় করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেই সময়ই কমলা রঙের টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তির গালে চড় মারতে দেখা যায় তাঁকে। ঘটনাটি ক্যামেরায় ধরা পড়ে এবং পরে তার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই ব্যক্তি তৃণমূলেরই এক কর্মী। যদিও তিনি ঠিক কী করেছিলেন বা কোন পরিস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও সরকারি ব্যাখ্যা সামনে আসেনি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকের ধারণা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং অসুস্থ কর্মীদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর তাগিদ থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তেজিত হয়ে এমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন। তবে এই ব্যাখ্যার সরকারি নিশ্চিতকরণ এখনও মেলেনি।