জ্বালানি খাতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে আমেরিকা থেকে এলপিজি আমদানি বাড়াচ্ছে মোদী সরকার

নয়াদিল্লি: ভারত জ্বালানি খাতে আরেকটি কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে চলেছে। (LPG Imports)আমেরিকা থেকে এলপিজি আমদানি দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা করছে মোদী সরকার। এর মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর…

india-us-lpg-imports

নয়াদিল্লি: ভারত জ্বালানি খাতে আরেকটি কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে চলেছে। (LPG Imports)আমেরিকা থেকে এলপিজি আমদানি দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা করছে মোদী সরকার। এর মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর অত্যধিক নির্ভরতা কমিয়ে বৈচিত্র্যময় সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বর্তমানে আমেরিকা থেকে বার্ষিক ২২ লক্ষ টন এলপিজি আমদানির চুক্তি রয়েছে।

এটিকে দ্বিগুণ করে ৪৪ লক্ষ টন করার প্রস্তুতি চলছে।গত নভেম্বর ২০২৫ সালে ভারত আমেরিকার সঙ্গে একটি সুসংগঠিত এক বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। সেই চুক্তির আওতায় দেশের মোট বার্ষিক রান্নার গ্যাসের চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ আমদানি করা হচ্ছে আমেরিকা থেকে। এই উদ্যোগকে বিশেষজ্ঞরা বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ঝুঁকির মুখে স্পষ্ট বৈচিত্র্যকরণ কৌশল বলে অভিহিত করছেন।

আরও দেখুনঃ ওয়েনাড়ে ভয়াবহ ধস: অন্তত ৬ জন আহত, ‘মানবসৃষ্ট বিপর্যয়’ বললেন মন্ত্রী

ভারত এখন আর এক বা দুটি অঞ্চলের ওপর নির্ভর না করে একাধিক অংশীদারের কাছ থেকে তার প্রয়োজন মেটাতে চাইছে।ভারতে প্রতি বছর প্রায় ২ কোটি ৫০ লক্ষ টনেরও বেশি এলপিজি ব্যবহার হয়। এর বড় অংশই আসে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশ থেকে। কিন্তু ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, যুদ্ধ ও সরবরাহ চেইনের ঝুঁকির কারণে এই নির্ভরতা কমানো জরুরি হয়ে পড়েছে।

আমেরিকা থেকে আমদানি বাড়ানোর ফলে এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমবে। আমেরিকা শেল গ্যাস উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষস্থানে রয়েছে। তাদের কাছ থেকে স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে এলপিজি পাওয়া সম্ভব।কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন চুক্তির আলোচনা ইতিমধ্যে উন্নত পর্যায়ে রয়েছে।

আরও দেখুনঃজল চাওয়া চাতক পাকিস্তানে এবার বন্যার আঘাত হানল ভারত

এই আমদানি বৃদ্ধির ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে এলপিজির সরবরাহ আরও নিরাপদ ও স্থিতিশীল হবে। বিশেষ করে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের গ্রাহকরা এর সুফল পাবেন। উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় কোটি কোটি নিম্নবিত্ত পরিবার রান্নার গ্যাস ব্যবহার করছে। তাদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।এই পদক্ষেপ শুধু জ্বালানি নিরাপত্তাই নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।

আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতেও এটি সাহায্য করবে বলে মনে করছে কূটনীতিক মহলের একাংশ । দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা ইতিমধ্যে বেড়েছে। আমেরিকান কোম্পানিগুলো ভারতে বিনিয়োগেও আগ্রহ দেখাচ্ছে। এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত ‘এনার্জি ফর অল’ এবং আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার অস্থির। পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা, লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের সমস্যা এবং ওপেকের সিদ্ধান্তগুলো যেকোনো সময় সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

আরও দেখুনঃ ভারতকে জ্বালানি স্বাধীনতা অর্জন করতে দিতে চায় না চিন! দাবি বিজেপি মুখপাত্রের

এমন পরিস্থিতিতে আমেরিকার মতো নির্ভরযোগ্য সোর্স থেকে আমদানি বাড়ানো বুদ্ধিমানের কাজ। এছাড়া এলপিজির দাম স্থিতিশীল রাখতেও এটি সাহায্য করবে, যা সাধারণ মানুষের রান্নার খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখবে।ভারত সরকার ইতিমধ্যে অন্যান্য দেশের সঙ্গেও আলোচনা চালাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ এবং আফ্রিকার কয়েকটি দেশ থেকেও এলপিজি ও অন্যান্য জ্বালানি আমদানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লক্ষ্য একটাই বহুমুখী সরবরাহ নেটওয়ার্ক তৈরি করা। এতে করে কোনো একটি অঞ্চলের সমস্যা পুরো দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করতে পারবে না।

আরও দেখুনঃ