রামবান: জল চাওয়া চাতকের মত কয়েকদিন আগেও পাকিস্তান (Baglihar Dam)খরার আশঙ্কায় কাতর ছিল। সেই দেশ এবার বন্যার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের রামবান জেলায় চন্দ্রভাগা নদীর জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বাগলিহার বাঁধের তিনটি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে নিম্নাঞ্চলে জলের প্রবাহ বেড়েছে এবং পাকিস্তানের পাঞ্জাবসহ বিভিন্ন এলাকায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডোডা-কিস্তওয়াড় অঞ্চলে অবিরাম বৃষ্টির কারণে চন্দ্রভাগা নদীর জলস্তর দ্রুত বেড়ে যায়। বাঁধের জলাধারের স্তর ৮৯৩ মিটারে পৌঁছানোয় নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনটি স্পিলওয়ে গেট খুলে দেওয়া হয়। এতে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২,০০০ কিউসেক জল নিচের দিকে ছাড়া হয়েছে। বাঁধ কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানকে আগাম সতর্ক করে দিয়েছে যাতে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।
আরও দেখুনঃ ২০০৮ আহমেদাবাদ বিস্ফোরণ মামলা: ৩৮ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখল হাইকোর্ট
কয়েকদিন আগেই পাকিস্তানের বিভিন্ন মিডিয়া ও নেতারা ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন যে, সিন্ধু ওয়াটার ট্রিটির আওতায় চন্দ্রভাগা নদীর জল কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। খরার আশঙ্কায় তারা ‘জল অস্ত্র’ বলে ভারতের সমালোচনা করছিল। অথচ এখন একই নদীর অতিরিক্ত জল ছাড়ার কারণে বন্যার আতঙ্কে তারা উদ্বিগ্ন। এই বৈপরীত্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে।
অনেকে মজা করে বলছেন, “জল চাইলে খরা, জল পেলে বন্যা পাকিস্তানের জন্য কোনটাই ঠিক নয়।”বাগলিহার হাইড্রোইলেকট্রিক প্রকল্প চন্দ্রভাগা নদীর ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ রান-অফ-দ্য-রিভার প্রকল্প। এটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি জল নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। ভারত সরকার জানিয়েছে, এই গেট খোলা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক কারণে হয়েছে এবং এটি বাঁধের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল।
আরও দেখুনঃ ভারতকে জ্বালানি স্বাধীনতা অর্জন করতে দিতে চায় না চিন! দাবি বিজেপি মুখপাত্রের
অতিরিক্ত জল না ছাড়লে বাঁধের ক্ষতি হতে পারত এবং উজানের এলাকাগুলোতে ঝুঁকি বাড়ত।পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে পঞ্জাব প্রদেশে বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে এবং উদ্ধারকারী দলগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বলছেন, চন্দ্রভাগা নদীর জলস্তর দুই থেকে তিন মিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে।
শিয়ালকোট সহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং চলছে।এই ঘটনা সিন্ধু ওয়াটার ট্রিটি নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ঘটেছে। ভারত পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে চুক্তিটিকে স্থগিত রেখেছে। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে বলেছে যে, বাঁধের গেট খোলা কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং বাঁধ নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ।
আরও দেখুনঃ মোদী সফরে চমক! ইন্দনেশিয়ার নির্বাচনে স্বচ্ছতা আনতে ব্যবহার হবে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ EVM





