অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) কণ্ঠস্বরের নমুনা (ভয়েস স্যাম্পল) সংক্রান্ত মামলায় ফের পিছিয়ে গেল শুনানি। তবে মামলার শুনানি পিছোলেও আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতেই হবে। মঙ্গলবার আদালতে এই মামলার শুনানিতে রাজ্যের পক্ষ থেকে তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ তোলা হয়। অন্যদিকে বিচারপতিও প্রশ্ন তোলেন, আদালতের দেওয়া রক্ষাকবচ থাকা সত্ত্বেও কেন তদন্তে সহযোগিতা করা হচ্ছে না।
জানা গিয়েছে, (Abhishek Banerjee) আগামী ৮ জুলাই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের কথা ছিল। সেই প্রসঙ্গেই এদিন আদালতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, “আপনি তো রক্ষাকবচ পেয়েছেন। তারপরও কেন আসছেন না?” বিচারপতির এই মন্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যায়, আদালত তদন্তে সহযোগিতার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
রাজ্যের আইনজীবীও আদালতে (Abhishek Banerjee) দাবি করেন, আদালত যদি কোনও ব্যক্তিকে রক্ষাকবচ দেয়, তাহলে তাঁরও তদন্তে সহযোগিতা করার সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব রয়েছে। রাজ্যের তরফে আদালতে বলা হয়, “রক্ষাকবচ যদি দেওয়া হয়, তাহলে তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। ম্যাজিস্ট্রেট যেতে বলার পরেও তিনি মামলা করছেন। আমরা মামলাকারীর কথাতেই বিশ্বাস করতে পারি না, এটা কার কণ্ঠ।” অর্থাৎ, বিতর্কিত অডিও ক্লিপে যে কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে, তা আদৌ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কি না, তা নিশ্চিত করতেই তদন্তকারীদের কাছে কণ্ঠস্বরের নমুনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করা হয়।
এই যুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যও পর্যবেক্ষণ করেন, “ইতিমধ্যেই মামলাকারী অভিষেকের রক্ষাকবচ রয়েছে। কেন তিনি তদন্তে সহযোগিতা করছেন না? কণ্ঠস্বর নমুনা দিক তদন্তকারীদের।” আদালতের এই পর্যবেক্ষণ থেকেই স্পষ্ট, মামলার শুনানি পিছোলেও তদন্তের স্বার্থে ভয়েস স্যাম্পল দেওয়ার বিষয়ে আদালতের অবস্থান অনড়। ফলে আপাতত মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য অপেক্ষা করতে হলেও আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তদন্ত প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। আদালত এদিন কার্যত জানিয়ে দেয়, শুধুমাত্র শুনানি পিছিয়ে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে কণ্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে গিয়েছে। বরং তদন্ত সম্পূর্ণ করতে এই প্রক্রিয়া অপরিহার্য।
উল্লেখ্য, এই মামলার সূত্রপাত হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি রাজনৈতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এক জনসভায় তিনি ডিজে বাজানো নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। সেই সভায় অভিষেক বলেছিলেন, “চার তারিখ বারোটার পরে কোন জল্লাদের কত ক্ষমতা। কার দিল্লির বাবা তাঁকে বাঁচাতে আসে আমি দেখব। আর চার তারিখ… মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতই উদার হন স্টিয়ারিং আমার হাতে থাকবে। DJ তো বাজবেই, আর এমন জোরে বাজবে কান ঝালাপালা করে দেব।”
এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। পরবর্তীতে ওই মন্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট অডিও রেকর্ডিংকে কেন্দ্র করেই আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাকারীর দাবি, ওই অডিওর সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। সেই কারণেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের আবেদন করা হয়, যাতে ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিতর্কিত অডিওর কণ্ঠস্বরের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা যায়।
বর্তমানে মামলাটি বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসেই বিচারাধীন রয়েছে। একাধিকবার এই মামলার শুনানি হলেও এখনও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। তবে এদিনের শুনানিতে আদালতের পর্যবেক্ষণ স্পষ্ট করে দিয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ভয়েস স্যাম্পল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আগামী দিনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তদন্তে কীভাবে সহযোগিতা করেন এবং কণ্ঠস্বরের নমুনা কবে সংগ্রহ করা হয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহল থেকে আইনি মহল—সবার।





