মোদী সফরে চমক! ইন্দনেশিয়ার নির্বাচনে স্বচ্ছতা আনতে ব্যবহার হবে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ EVM

জাকার্তা: দুদিনের সফরে ইন্দোনেশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী মোদী। (EVM) প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুধুমাত্র দ্বিপাক্ষিক সৌহার্দ্যের প্রতীক হয়ে উঠেনি, বরং দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের…

modi-indonesia-evm

জাকার্তা: দুদিনের সফরে ইন্দোনেশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী মোদী। (EVM) প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুধুমাত্র দ্বিপাক্ষিক সৌহার্দ্যের প্রতীক হয়ে উঠেনি, বরং দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের বাড়তে থাকা প্রভাবের মুখে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার এই ঘনিষ্ঠতা আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন কূটনীতিক মহলের একাংশ।

সফরকালে দুই দেশের মধ্যে একাধিক মেগা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করবে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য চুক্তির মধ্যে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ায় ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) উন্নয়ন ও সরবরাহ। ইন্দোনেশিয়ার নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও দক্ষ করতে ভারত তার অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি শেয়ার করবে।

আরও দেখুনঃ “মুখ্যমন্ত্রী আমাদের পাঠিয়েছেন”: পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন কাকলি ও সায়নী

এই উদ্যোগ শুধু প্রযুক্তিগত সহযোগিতাই নয়, দুই গণতান্ত্রিক দেশের মধ্যে বিশ্বাসের সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে।প্রতিরক্ষা খাতে এই সফরের সবচেয়ে বড় অর্জন হল ভারতীয় অস্ত্রের প্রতি ইন্দোনেশিয়ার আস্থা। ইন্দোনেশিয়া ভারতের তৈরি অ্যাস্ট্রা এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল ক্রয় করতে চলেছে। এই অত্যাধুনিক মিসাইল ইন্দোনেশিয়ার বিমানবাহিনীর ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে।

পাশাপাশি, দেশটি তার ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইলের ইনভেন্টরি আরও বাড়াতে যাচ্ছে। নতুন ব্যাটারি সংযোজনের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ার উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। ব্রহ্মোসের যৌথ উৎপাদন ও আপগ্রেডেশন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব এবার আরও গভীরতা পেল।

আরও দেখুনঃ ইডি স্ক্যানারে তৃণমূলের তহবিল, মঙ্গলের সকাল থেকেই কলকাতার ৫ জায়গায় তল্লাশি

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বড় আকারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারত ইন্দোনেশিয়ায় স্টিল, নিকেল এবং রেয়ার আর্থ ম্যাগনেট উৎপাদনে বড় ধরনের বিনিয়োগ করবে। ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম নিকেল উৎপাদক। এই সম্পদকে কাজে লাগিয়ে বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি ও উন্নত প্রযুক্তির চেইন তৈরিতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। এই বিনিয়োগ শুধু ভারতীয় কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন বাজারই খুলে দেবে না, ইন্দোনেশিয়ায় কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত উদ্যোগ হলো সাবাং বন্দরের যৌথ উন্নয়ন। মালাক্কা প্রণালীর কাছে অবস্থিত এই বন্দরটি বাণিজ্যিক ও সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। দুই দেশ মিলে এই বন্দরের পরিকাঠামো উন্নয়ন করবে, যা ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে বাণিজ্যপথকে আরও সহজ ও নিরাপদ করবে। এই প্রকল্প ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মুক্ত ও উন্মুক্ত সমুদ্রপথ বজায় রাখার ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আরও দেখুনঃ ২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই ফের রক্তাক্ত বারুইপুর! এবার হিংসার বলি ১৭ র কিশোর