বারুইপুর: ফের উত্তেজনার পারদ চড়ল বারুইপুরে। (Baruipur)নাবালিকা ধর্ষণ খুনের ২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই ফের রক্তাক্ত কিশোর। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে এক কিশোরের নৃশংস খুনের ঘটনায় ফের এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ১৭ বছরের প্রসেনজিৎ বিশ্বাস নামে ওই কিশোরকে প্রতিপক্ষের লোকজন বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে গলায় ছুরির কোপ মেরে খুন করার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর বারুইপুর মহকুমা হাসপাতাল চত্বর ও সংলগ্ন এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে। পুলিশ বিশাল বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।পালপাড়া ব্যাঙ্ক সংলগ্ন এলাকায় বাস করত প্রসেনজিৎ। স্থানীয় একটি ফুটবল ম্যাচে তার দল জয়লাভ করার পর প্রতিপক্ষের কয়েকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, তারা প্রসেনজিৎকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে আক্রমণ করে।
আরও দেখুনঃ পাঠ্যবইয়ে শ্যামাপ্রসাদ: আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই অন্তর্ভুক্তির ঘোষণা শুভেন্দুর
গলায় ছুরির কোপে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে এলাকায় উত্তেজনা থামেনি। পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। অনেকে অভিযোগ করেছেন, পুলিশ আগে থেকে সতর্ক না থাকায় এমন ঘটনা ঘটেছে।
এর ঠিক আগের দিন, ৫ জুলাই বারুইপুরে আরেকটি ভয়ংকর ঘটনা ঘটে গিয়েছে। ১১ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। অভিযোগ, খুনিরা মেয়েটির দেহ বস্তাবন্দী করে পুকুরে ফেলে দেয়। যদিও নাবালিকা খুনের সমস্ত অভিযুক্তই এখন পুলিশের জালে। এই ঘটনায়ও এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দুই দিনের মধ্যে দুটি শিশু-কিশোর হত্যার ঘটনায় বারুইপুরের সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
অনেকেই দাবি করেছেন, বারুইপুর এলাকায় অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। বিশেষ করে কিশোর অপরাধ ও মাদকের প্রভাব বাড়ছে।বারুইপুর পুলিশ জানিয়েছে, উভয় ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রসেনজিৎ হত্যা মামলায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের ঘটনায়ও ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ সুপার বলেন, “আমরা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করব।
এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোনো ধরনের অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না।”এই দুটি ঘটনা দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বিধায়ক ও জনপ্রতিনিধিরা পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানিয়েছেন এবং দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন।




