হোলি-শিবরাত্রিতে আর লুকোছাপা নয়! ভাং মাদক নয় জানাল হাইকোর্ট

রাঁচি: হোলিতে বড় ভূমিকা রয়েছে ভাঙের। (Jharkhand)অনেকেই দোল বা হোলি উপলক্ষে ভাং নামক এই নেশার দ্রব্য খেয়ে আনন্দ উপভোগ করেন। তাদের জন্যই স্বস্তির বার্তা নিয়ে…

jharkhand-high-court-bhang-ruling

রাঁচি: হোলিতে বড় ভূমিকা রয়েছে ভাঙের। (Jharkhand)অনেকেই দোল বা হোলি উপলক্ষে ভাং নামক এই নেশার দ্রব্য খেয়ে আনন্দ উপভোগ করেন। তাদের জন্যই স্বস্তির বার্তা নিয়ে এল ঝাড়খণ্ডের হাইকোর্ট। ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে জানিয়েছে যে, ভাং এনডিপিএস (নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস) আইনের আওতাভুক্ত নয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ভাং যে চরস, গাঁজা বা গাঁজার পাতা থেকে তৈরি হয় তার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এই রায়ের ফলে দেশজুড়ে ভাং সংক্রান্ত আইনি বিতর্কে নতুন মোড় এসেছে।মামলার শুনানিতে বিচারপতি জানান, এনডিপিএস আইনে গাঁজা ও চরসকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু ভাংয়ের ক্ষেত্রে আইনের স্পষ্ট উল্লেখ নেই।

আরও দেখুনঃ বিরোধিতা ভুলে আপোষের লক্ষ্যে মোদীর দ্বারস্থ নেপাল

আদালত আরও বলেছে, ভাং ঐতিহ্যগতভাবে হিন্দু ধর্মে ব্যবহৃত হয় এবং বিভিন্ন উৎসবে এর প্রচলন রয়েছে। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভাংকে গাঁজার সমতুল্য বলে প্রমাণ করা যায়নি। ফলে ভাংয়ের অধিকারী বা ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে এনডিপিএস আইনে মামলা চালানো যাবে না।এই রায়কে অনেকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিশেষ করে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভাং ব্যবহারকারীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।

হোলি, মহাশিবরাত্রি বা বিভিন্ন মেলায় ভাংয়ের ঐতিহ্য ভারতীয় সংস্কৃতির অংশ। অনেকে বলছেন, এই রায় সাংস্কৃতিক অধিকারকে সম্মান জানিয়েছে। তবে আইনজীবী ও মাদকবিরোধী সংগঠনগুলো এই রায় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

আরও দেখুনঃ নাম বদলে গেল জালালাবাদের! পরশুরামপুরী নাম শিলমোহর যোগীর

তাদের যুক্তি, ভাং থেকে তৈরি বিভিন্ন পণ্যে ক্যানাবিসের উপাদান থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এর অপব্যবহার বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। একজন মাদকবিরোধী কর্মী বলেন, “রায়টি সাংস্কৃতিক দিক থেকে ঠিক হলেও, স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির দিকটি বিবেচনা করা উচিত ছিল।”

ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে অন্যান্য রাজ্যের আদালতেও অনুরূপ মামলায় প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভাং সংক্রান্ত মামলা চলছে। এই রায়ের পর সেসব ক্ষেত্রে নতুন করে আবেদন করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আইনজীবীরা বলছেন, কেন্দ্রীয় সরকার এখন এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করতে পারে।

আরও দেখুনঃ হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করতে ৪ লক্ষ পুরস্কার মৌলভীর! দেবভূমিতে বজরং দলের হাতে গ্রুমিং গ্যাং