Agniveers: অগ্নিপথ প্রকল্পের আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত তরুণদের জন্য একটি সুখবর রয়েছে। চার বছরের পরিষেবা শেষে নিয়মিত সৈনিক হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা এখন আগের চেয়ে জোরালো হতে পারে। তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে স্থায়ী পরিষেবায় ‘অগ্নিবীর’দের অন্তর্ভুক্তির বর্তমান সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মাত্র ২৫ শতাংশ অগ্নিবীর নিয়মিত নিয়োগের সুযোগ পান, তবে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী এই হার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। যদিও এই প্রস্তাবের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবে এটি অনুমোদিত হলে হাজার হাজার অগ্নিবীর সরাসরি উপকৃত হতে পারেন।
সেবায় বহাল রাখার হার বাড়ানোর পরিকল্পনা
বর্তমানে, ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্পের আওতায় চার বছরের মেয়াদ পূর্ণ করা অগ্নিবীরদের মধ্যে মাত্র ২৫ শতাংশকে নিয়মিত সৈনিক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এখন সশস্ত্র বাহিনীর তিনটি শাখা এই ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, নৌবাহিনী ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ‘অগ্নিবীর’-কে স্থায়ী চাকরিতে বহাল রাখার প্রস্তাব দিয়েছে; অন্যদিকে সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনী এই হার ৫০ শতাংশের কাছাকাছি উন্নীত করার পক্ষে। তবে এ বিষয়ে সরকার এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং বিদ্যমান নিয়মাবলীই বলবৎ রয়েছে।
প্রথম ব্যাচের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে
‘অগ্নিপথ’ প্রকল্পের আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত অগ্নিবীরদের প্রথম ব্যাচের চার বছরের মেয়াদ এ বছরই শেষ হবে। বর্তমান ব্যবস্থা অনুযায়ী, মেয়াদ শেষে আগ্রহী অগ্নিবীরদের মধ্য থেকে মেধার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সংখ্যক সদস্যকে নিয়মিত সৈনিক হিসেবে পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হবে।
Agniveers:সশস্ত্র বাহিনীতে অভিজ্ঞ কর্মীদের ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ
তিনটি সশস্ত্র বাহিনীর অভিমত হলো, চার বছরের কার্যকালে অগ্নিবীররা অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র, নতুন প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন সামরিক অভিযান সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা অর্জন করে। সেনাবাহিনীতে এ ধরনের প্রশিক্ষিত কর্মীদের একটি বড় অংশকে ধরে রাখা সামরিক সক্ষমতা জোরদার করবে এবং জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সুফল বয়ে আনবে। এমনকি সামগ্রিক ধরে রাখার হার (retention rate) বৃদ্ধি না পেলেও, বিশেষায়িত সামরিক ইউনিট—যেমন সদ্য গঠিত ‘ভৈরব ব্যাটালিয়ন’-এ—স্থায়ী বা নিয়মিত হওয়া ‘অগ্নিবীর’-দের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
নিয়োগ কার্যক্রম জোরদার করা হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের আওতাধীন ‘ডিপার্টমেন্ট অফ মিলিটারি অ্যাফেয়ার্স’ এই প্রস্তাবটি নিয়ে আরও আলোচনা করতে পারে। পাশাপাশি, ‘অগ্নিবীর’দের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের পরিধিও ক্রমাগত সম্প্রসারিত করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক ব্যাচগুলোতে প্রায় ৭০ হাজার অগ্নিবীর প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন এবং এর পাশাপাশি সেনাবাহিনী পরবর্তী ধাপে আরও প্রায় ৯০ হাজার নতুন সদস্য নিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর লক্ষ্য হলো আগামী বছরগুলোতে সৈন্যের ঘাটতি পূরণ করা এবং অভিজ্ঞ অগ্নিবীরদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা।





