বারুইপুর নাবালিকা মৃত্যু কাণ্ডে ধৃত বেড়ে ২

কলকাতা: বারুইপুর থানা এলাকায় এক নাবালিকাকে গণধর্ষণ (Baruipur)এবং মৃত্যুর ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপারিনটেনডেন্ট জানিয়েছেন, গতকাল ঘটনার পর থেকেই তদন্ত…

baruipur-minor-case-arrests

কলকাতা: বারুইপুর থানা এলাকায় এক নাবালিকাকে গণধর্ষণ (Baruipur)এবং মৃত্যুর ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপারিনটেনডেন্ট জানিয়েছেন, গতকাল ঘটনার পর থেকেই তদন্ত শুরু হয় এবং দ্রুত অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে আটক করা হয়। এলাকায় এই ঘটনায় গভীর শোকের ছায়া নেমেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা কোথায় ছিল?

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের একটি এলাকায় বাস করত বছর দশেকের ওই নাবালিকা। গতকাল সকালে তার মৃতদেহ উদ্ধার হয় বাড়ির কাছেই পুকুরে। প্রাথমিকভাবে দেখে মনে হয়েছিল দুর্ঘটনা, কিন্তু পরিবারের সদস্যরা সন্দেহ প্রকাশ করায় পুলিশ তদন্তে নামে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং প্রাথমিক তদন্তে কিছু আপত্তিকর তথ্য উঠে আসে।

আরও দেখুনঃ বারুইপুর কাণ্ড: শিউরে ওঠার মতো ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, নৃশংস ধর্ষণের ইঙ্গিত

এরপরই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের নাম এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে তদন্তকারী অফিসাররা জানিয়েছেন, তারা স্থানীয় এলাকারই বাসিন্দা এবং ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে কিছু প্রমান উদ্ধার করা হয়েছে যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।এই ঘটনায় শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে নাবালিকার পরিবার। তার বাবা-মা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।

প্রতিবেশীরা জানান, মেয়েটি খুবই চঞ্চল ও লেখাপড়ায় মনোযোগী ছিল। প্রতিদিন সকালে স্কুলে যেত। কেউ কল্পনাও করতে পারেনি এমন ভয়ংকর ঘটনা ঘটবে। এক প্রতিবেশী মহিলা চোখের জল মুছে বলেন, “আমাদের মেয়ের মতোই ছিল সে। সারাদিন হাসত, খেলত। কীভাবে এমন হল? পুলিশ যেন কঠোর শাস্তি দেয়।” এলাকায় এখন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন।

আরও দেখুনঃ বারুইপুর কাণ্ড: মমতা কি যেতে পারবেন? ঘিরে ফেলা হল বাড়ি, ধর্ষণ-খুনে ধৃত ৩

শিশু সুরক্ষা সংগঠনগুলি এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা বলছে, গ্রামীণ ও শহরতলি এলাকায় শিশু নিরাপত্তা নিয়ে আরও সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে মেয়ে শিশুদের ওপর যেকোনো ধরনের অত্যাচারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পশ্চিমবঙ্গে এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে বলে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় বিধায়ক ও জনপ্রতিনিধিরা পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানিয়েছেন এবং পুলিশকে দ্রুত তদন্ত শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন।