নতুন অতিথিকে ঘিরে স্বপ্নে ভরে উঠেছিল পরিবার। (Cody Gakpo)অক্টোবরে ঘরে আসার কথা ছিল এক পুত্রসন্তানের। কিন্তু সেই প্রতীক্ষার মাঝেই নেমে এল জীবনের অন্যতম বড় ট্র্যাজেডি। নেদারল্যান্ডসের তারকা ফুটবলার কোডি গাকপো ও তাঁর সঙ্গী নোয়া ভ্যান ডার বিজ জানিয়েছেন, গর্ভাবস্থাতেই তাঁদের অনাগত পুত্রসন্তানের মৃত্যু হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন বার্তার মাধ্যমে এই দুঃসংবাদ ভাগ করে নিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে এই কঠিন সময়ে তাঁদের পরিবারের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান জানাতে সকলের কাছে আবেদন করেছেন।
মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই গাকপো ও নোয়া সুখবর দিয়েছিলেন যে তাঁদের পরিবারে নতুন সদস্য আসছে। ইতিমধ্যেই তাঁদের এক ছেলে রয়েছে, আর দ্বিতীয় সন্তানকে ঘিরে পরিবারে ছিল আনন্দের আবহ। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই আনন্দ মুহূর্তেই গভীর শোকে পরিণত হয়। নোয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি পোস্ট করেন, যেখানে তিনি ও গাকপো একটি ছোট্ট কম্বল ও শিশুর টুপির ওপর হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছেন।
আরও দেখুনঃ হ্যারি কেনের নতুন ইতিহাস, গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে ইংল্যান্ড
সেই ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, ভাঙা হৃদয় নিয়ে জানাতে হচ্ছে যে তাঁদের পুত্রসন্তান আর পৃথিবীর আলো দেখতে পারবে না। গর্ভাবস্থাতেই তার মৃত্যু হয়েছে। সকলের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের সন্তানের নাম রাখা হয়েছিল এলাইজা রাফায়েল গাকপো। যদিও সে জন্ম নিতে পারেনি, তবুও চিরকাল তাঁদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে এবং সবসময় তাঁদের সন্তান হিসেবেই থাকবে।
এরপর আরও একটি আবেগপূর্ণ পোস্টে নোয়া জানান, এই শোকের মধ্যেই তাঁরা বড় ছেলে স্যামুয়েলকে নিয়ে একটি গির্জায় গিয়েছিলেন। সেখানে একটি মোমবাতি জ্বালানোর পর তাঁরা একটি খেলার মাঠে যান। আশ্চর্যজনকভাবে সেখানে উপস্থিত একমাত্র শিশুটির নামও ছিল এলাইজা। এই ঘটনাকে ঈশ্বরের এক বিশেষ বার্তা বলেই মনে হয়েছে তাঁদের। নোয়ার কথায়, সেই মুহূর্তে তাঁদের মনে হয়েছে, তাঁদের ছোট্ট সন্তান কখনও তাঁদের থেকে দূরে নয় এবং সবসময় তাঁদের সঙ্গেই রয়েছে।
অন্যদিকে গাকপোও নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, তাঁদের পরিবারের জন্য এটি অবর্ণনীয় কঠিন সময়। এই পরিস্থিতিতে কিছুটা ব্যক্তিগত সময় ও নির্জনতা প্রয়োজন। তাই তিনি সকলের কাছে অনুরোধ করেছেন, যেন তাঁদের পরিবারের গোপনীয়তাকে সম্মান জানানো হয়। পাশাপাশি যাঁরা সমবেদনা ও ভালোবাসা জানিয়েছেন, তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ডাচ তারকা।
ব্যক্তিগত জীবনে এত বড় আঘাত পেলেও পেশাদার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াননি গাকপো। তিনি বর্তমানে নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপে খেলছেন। টুর্নামেন্টের শুরুতে জাপানের বিপক্ষে ম্যাচে গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন নোয়া। তখনও কেউ ভাবতে পারেননি, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এমন এক দুঃসংবাদ তাঁদের জীবনকে বদলে দেবে।
বিশ্বকাপে অবশ্য দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন লিভারপুলের এই ফরোয়ার্ড। গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই প্রথম একাদশে সুযোগ পেয়ে দুটি গোল করেছেন এবং একটি গোলে সহায়তা করেছেন। বিশেষ করে সুইডেনের বিরুদ্ধে বড় জয়ে তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর পারফরম্যান্সে ভর করেই গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল করে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে নেদারল্যান্ডস।
তবে মাঠের সাফল্যের আড়ালে যে একজন বাবার অপূরণীয় শোক লুকিয়ে রয়েছে, সেই সত্যই আজ সবচেয়ে বেশি স্পর্শ করছে ফুটবল বিশ্বকে। সতীর্থ, সমর্থক ও বিভিন্ন ক্লাব-সংস্থার পক্ষ থেকে গাকপো ও তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হচ্ছে। জীবনের এই কঠিন সময় পার করে তিনি আবারও নতুন করে শক্তি ফিরে পাবেন এমনই প্রার্থনা করছেন তাঁর অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী



