নয়াদিল্লি: ভারত জ্বালানি বিপ্লবে নতুন যুগের সূচনা করতে চলেছে। (Isobutanol Diesel)সরকার ঘোষণা করেছে যে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে (Q2 FY2027) আইসোবিউটানল-ডিজেল ব্লেন্ডিংয়ের ট্রায়াল শুরু হবে। এই পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে ডিজেলের সঙ্গে মাত্র ২ শতাংশ আইসোবিউটানল মিশিয়ে পরীক্ষা চালানো হবে।
এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা এবং আমদানি নির্ভরতা কমানোর বৃহত্তর কৌশলের অংশ।আইসোবিউটানল একটি উন্নত জৈব জ্বালানি, যা জৈববস্তু থেকে উৎপাদিত হয়। ডিজেলের তুলনায় এর ক্যালোরিফিক ভ্যালু বা শক্তির মান কিছুটা কম হলেও, এর পরিবেশবান্ধব গুণাগুণ এবং উচ্চ অকটেন রেটিং এটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সঠিক অনুপাতে মিশ্রণ করলে ইঞ্জিনের পারফরম্যান্সে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না।
আরও দেখুনঃ চলতি বছরের সেপ্টেম্বরেই ভারতীয় বিমানবাহিনী পাচ্ছে আত্মনির্ভর ভারতের মাইলস্টোন সি-২৯৫
তবে সতর্কতার সঙ্গে এর প্রভাব মূল্যায়ন করা জরুরি। সরকার এজন্য ১০ মাসব্যাপী বিস্তারিত প্রযুক্তিগত মূল্যায়নের পরিকল্পনা করেছে। এই অ্যাসেসমেন্টে ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা, নির্গমনের মান, জ্বালানির স্থিতিশীলতা, স্টোরেজ সুবিধা এবং পরিকাঠামোগত চ্যালেঞ্জগুলো খতিয়ে দেখা হবে।যদি এই ট্রায়াল সফল হয়, তাহলে আইসোবিউটানলকে স্ট্যান্ডার্ড ডিজেলের জন্য ‘ড্রপ-ইন’ প্রতিস্থাপক হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
অর্থাৎ, বিদ্যমান ডিজেল ইঞ্জিন বা ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমে কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন ছাড়াই এটি ব্যবহার করা যাবে। এটি একটি বড় সাফল্য হবে, কারণ ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ। প্রতি বছর প্রায় ৮৫ শতাংশ ক্রুড অয়েল আমদানি করতে হয়, যার জন্য বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। বায়োফুয়েলের মাধ্যমে এই নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে সরকার।
একই সঙ্গে সরকার ইথানলের ক্ষেত্রেও বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। E85 এবং E100 ইথানল জ্বালানির রোলআউট ঘোষণা করা হয়েছে। E85 মানে ৮৫ শতাংশ ইথানল এবং ১৫ শতাংশ পেট্রলের মিশ্রণ, আর E100 হলো শতভাগ ইথানল। এগুলো পেট্রলচালিত যানবাহনের জন্য উপযোগী এবং পরিবেশ দূষণ অনেকাংশে কমাতে সক্ষম।
ইতিমধ্যে E20 (২০% ইথানল ব্লেন্ড) সারা দেশে ব্যাপকভাবে চালু হয়েছে এবং ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। এখন E85 ও E100-এর দিকে এগোনোর মাধ্যমে ভারত বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বায়োফুয়েল ব্যবহারকারী দেশে পরিণত হতে পারে।আইসোবিউটানল প্রকল্পটি কৃষকদের জন্যও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। এটি প্রধানত ভুট্টা, আখ, ক্যাসাভা এবং অন্যান্য জৈববস্তু থেকে উৎপাদিত হয়।
ফলে কৃষি অর্থনীতি চাঙ্গা হবে, গ্রামীণ কর্মসংস্থান বাড়বে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও উন্নত হবে। তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। আইসোবিউটানলের উৎপাদন খরচ এখনও তুলনামূলকভাবে বেশি। সরবরাহ চেইন, স্টোরেজ এবং পরিবহন অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। ইঞ্জিন ম্যানুফ্যাকচারারদের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন মান নির্ধারণ করতে হবে।
পরিবেশবিদরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। আইসোবিউটানল ব্লেন্ডিংয়ের ফলে কার্বন নির্গমন উল্লেখযোগ্য হারে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি নেট জিরো লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে। কেন্দ্রীয় জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল বায়োফুয়েল কো-অর্ডিনেশন কমিটি এই প্রকল্পের তদারকি করছে। বিভিন্ন রাজ্যের তেল কোম্পানি এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এতে যুক্ত করা হয়েছে।



