শহরের রাস্তা ও জনপরিসরকে আরও শৃঙ্খলিত ও যানচলাচল উপযোগী করে তুলতে বড় পদক্ষেপ নিল কলকাতা পুরসভা। শহরের গুরুত্বপূর্ণ (Sealdah flyover) দুই অবকাঠামো শিয়ালদহ ফ্লাইওভার এবং সুকান্ত সেতুর নিচে থাকা বেআইনি দখল ও অস্থায়ী নির্মাণ সরিয়ে দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই নোটিস জারি করা হয়েছে। পুরসভার এই সিদ্ধান্তে শহরের একাধিক এলাকায় শুরু হয়েছে আলোচনার ঝড়।
গত শনিবার, অর্থাৎ ২৭ জুন, কলকাতা পুরসভা একটি সরকারি নোটিস জারি করে জানায় যে আগামী সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দুই এলাকার বেআইনি দখলদারদের জায়গা খালি করতে হবে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে জায়গা না ছাড়লে কলকাতা পৌরনিগম আইন অনুযায়ী, ১৯৮০ সালের বিধান মেনে কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নোটিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।(Sealdah flyover)
পুরসভার দাবি, (Sealdah flyover) শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় এবং ফ্লাইওভারের নিচে দীর্ঘদিন ধরে বেআইনি নির্মাণ ও জবরদখল চলছিল। ফলে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, পথচারীদের চলাচলেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে এবং শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের লক্ষ্যেই এই অভিযান শুরু করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
শিয়ালদহ ফ্লাইওভার এলাকার নিচে বহুদিন ধরে অস্থায়ী দোকান, ছোট ব্যবসা এবং নানা ধরনের দখল গড়ে উঠেছিল। একই চিত্র দেখা যাচ্ছিল সুকান্ত সেতুর নিচেও। এইসব জায়গায় অবৈধভাবে নির্মিত কাঠামো ও দখলদারিত্বের কারণে প্রতিদিন যানজট ও ভিড়ের সৃষ্টি হচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ছিল, এইসব কারণে সাধারণ মানুষের হাঁটাচলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।
পুরসভা জানিয়েছে, রাস্তা খালি করা এবং জনপরিসর পুনরুদ্ধার করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, শহরের কোথাও বেআইনি নির্মাণ বা জবরদখল বরদাস্ত করা হবে না। যাঁরা এই নির্দেশ অমান্য করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট জনস্বার্থ ও শহরের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ করিডরগুলোকে যানজটমুক্ত করা এবং নিরাপদ চলাচলের পরিবেশ তৈরি করাই মূল লক্ষ্য। সেই কারণে শিয়ালদহ ও সুকান্ত সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজর দেওয়া হয়েছে।



