গান্ধীনগর: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গুজরাটের গান্ধীনগরে (Amit Shah)‘ভারত ট্যাক্সি’ নামে এক নতুন সমবায়ভিত্তিক ট্যাক্সি সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন। এই উদ্যোগকে তিনি শুধু একটি পরিবহন সেবা নয়, বরং চালক ও যাত্রী উভয়ের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার এক বড় পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করেছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হাজারো মানুষের সামনে অমিত শাহ বলেন, এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো চালকদের এবং যাত্রীদের কোনো ধরনের শোষণ থেকে মুক্তি দেওয়া।
অমিত শাহ বলেন, “আজ আমি গর্বের সঙ্গে বলতে পারি যে, ভারত ট্যাক্সির সঙ্গে যুক্ত সাত লক্ষ অংশীদার আসলে এর মালিক। তাঁরা সবাই শেয়ারহোল্ডার। এই মালিকানা তাঁদের মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেয়।” তিনি আরও জানান, আগে চালকদের অ্যাপ-নির্ভরতা থেকে মুক্তি দিতে এবং তাঁদের স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘ভারত ট্যাক্সি’ সমবায় মডেলে চলবে।
আরও দেখুনঃ হিন্দু থেকে মুসলিম হওয়া ব্যাক্তিরা পাবেন না সংরক্ষণের সুবিধা! নির্দেশ মাদ্রাস হাইকোর্টের
এখানে চালকরা নিজেরাই মালিকানার অংশীদার। কোনো বড় কোম্পানির অধীনে কাজ না করে তাঁরা নিজেদের ব্যবসা নিজেরাই চালাবেন। অমিত শাহ জানিয়েছেন, এই প্রকল্প ইতিমধ্যে কয়েকটি জায়গায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে। আজ থেকে গুজরাটের সব বড় শহরে এটি পুরোদমে শুরু হলো। দু’চাকা, অটোরিকশা এবং চার চাকার গাড়ি সব ধরনের যানবাহন এই সার্ভিসের আওতায় আসবে।
এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় দিক হলো চালকদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। অ্যাপ-ভিত্তিক বড় কোম্পানিগুলোতে চালকদের প্রায়ই কমিশনের উচ্চ হার, অনিশ্চিত আয় এবং নিয়ন্ত্রণের শিকার হতে হয়। ভারত ট্যাক্সি সেই ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করে এক নতুন মডেল হাজির করেছে। এখানে লাভের বড় অংশ চালকদের কাছেই থাকবে। অমিত শাহ বলেছেন, এই মালিকানার মাধ্যমে চালকদের জীবনে শুধু আর্থিক স্থিতিশীলতাই আসবে না, তাঁদের সামাজিক মর্যাদাও বাড়বে।
গুজরাটে এই প্রকল্পের সফল উদ্বোধনের পর সারা দেশে এর বিস্তার ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই উদ্যোগকে ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যাত্রীদের জন্যও এতে সুবিধা রয়েছে। স্বচ্ছ ভাড়া, ভালো সেবা এবং শোষণমুক্ত পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করা যায়।





