রাশিয়ার রহস্যময় ‘স্কাইফল’ (Skyfall) পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রটি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘৯এম১৭৯ বুরেভেস্টনিক’ (9M179 Burevestnik Nuclear Missile) নামেও পরিচিত এই ক্ষেপণাস্ত্রটি চলার পথে তেজস্ক্রিয় পদার্থের অবশেষ রেখে যায়, যা এটিকে প্রচলিত অস্ত্রের তুলনায় অনেক বেশি বিপজ্জনক করে তোলে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি পারমাণবিক আঘাত হানতে সক্ষম। পৃষ্ঠতলের অত্যন্ত কাছাকাছি দিয়ে উড্ডয়নপথের কারণে ৯এম১৭৯ বুরেভেস্টনিক (9M179 Burevestnik) ক্ষেপণাস্ত্রটিকে রাডারের মাধ্যমে শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী এর পাল্লা অসীম, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে ক্ষেপণাস্ত্রটির সর্বোচ্চ পাল্লা ১৪,০০০ কিলোমিটার।
রাশিয়ার ছয়টি কৌশলগত অস্ত্রের একটি
‘স্কাইফল’ বা ‘বুরেভেস্টনিক’ ক্ষেপণাস্ত্রটি হলো ২০১৮ সালের ১লা মার্চ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উন্মোচন করা ছয়টি নতুন কৌশলগত অস্ত্রের মধ্যে একটি। পুতিন একাধিকবার এই ক্ষেপণাস্ত্রটির প্রশংসা করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, বিশ্বের অন্য কোনো অস্ত্র এর সমকক্ষ নয়। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেছেন যে, বিশ্বজুড়ে অন্য কোনো ক্ষেপণাস্ত্রই এর প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে না। তিনি এটিকে রাশিয়ার অস্ত্রভাণ্ডারের সবচেয়ে অত্যাধুনিক ও শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন—এমন এক অস্ত্র, যার কোনো পাল্টা ব্যবস্থা নেই।
বুরেভেস্টনিকের পাল্লা ও গতি কত?
যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর ধারণা, বুরেভেস্টনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সবকটি পরীক্ষাই সফল হয়েছে। ‘নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভ’-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ২০১৬ সাল থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রটির ১৩টি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের রেকর্ড পাওয়া গেছে, যার মধ্যে মাত্র দুটি আংশিকভাবে সফল হয়েছিল। তবে, রাশিয়ান জেনারেল স্টাফের প্রধান ভালেরি গেরাসিমভ দাবি করেছেন যে, ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর ‘বুরেভেস্টনিক’ (Burevestnik) ক্ষেপণাস্ত্রটি ১৫ ঘণ্টার উড্ডয়নকালে ১৪,০০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে। এ সময় ক্ষেপণাস্ত্রটির গড় গতিবেগ ছিল শব্দের গতির ৭৫ শতাংশ।
বুরেভেস্টনিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি কী?
ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির (এমআইটি) দুজন বিজ্ঞানী রাশিয়ার বুরেভেস্টনিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে বিশদ গবেষণা চালিয়েছেন। তাঁদের দাবি, উড্ডয়নকালে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি তেজস্ক্রিয় পদার্থ নির্গত করে। এমআইটি-র অধ্যাপক জেক হেকলা এবং আর. স্কট কেম্প (অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনটিক্স বিভাগ এবং নিউক্লিয়ার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের) তাঁদের প্রতিবেদনে প্রাক্কলন করেছেন যে, বুরেভেস্টনিক ক্ষেপণাস্ত্রটির মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৩১ ফুট (৯.৫ মিটার) এবং এর ডানার বিস্তার প্রায় ১৮ ফুট (৫.৬ মিটার)। এটি সম্ভবত ম্যাক ০.৭৫ গতিতে উড্ডয়ন করে। এ-ও বলা হয়ে থাকে যে, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ‘ডাইরেক্ট-সাইকেল এয়ার-ব্রিদিং নিউক্লিয়ার প্রপালশন’ ব্যবস্থা ব্যবহার করে, যা সম্ভবত একটি টার্বোজেট ইঞ্জিনের মাধ্যমে চালিত হয়।



