লোকসভায় ইস্তফা দিলেন সন্ত্ৰাসবাদী কার্যকলাপে যুক্ত বারামুল্লার সাংসদ

কাশ্মীরের বারামুল্লা লোকসভা কেন্দ্রের স্বতন্ত্র সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার রাশিদ (Engineer Rashid)সম্প্রতি লোকসভা থেকে পদত্যাগ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। প্রকাশ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার…

engineer-rashid-lok-sabha-resignation-baramulla-jk-politics

কাশ্মীরের বারামুল্লা লোকসভা কেন্দ্রের স্বতন্ত্র সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার রাশিদ (Engineer Rashid)সম্প্রতি লোকসভা থেকে পদত্যাগ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। প্রকাশ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। বর্তমানে তিনি দিল্লির তিহার জেলে বন্দি অবস্থায় রয়েছেন, ফলে নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও সংসদীয় কাজকর্ম পরিচালনা করতে না পারার অক্ষমতার কথাই তাঁর এই সিদ্ধান্তের পিছনে মূল কারণ বলে জানা গেছে।

সূত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) কর্তৃক সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন এবং বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (UAPA) অনুযায়ী দায়ের করা মামলায় তিনি কারাবন্দি। দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন অবস্থায় জেলে থাকলেও তিনি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় রয়েছেন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বারামুল্লা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বড় চমক দেন। সেই নির্বাচনে তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহকে দুই লক্ষেরও বেশি ভোটে পরাজিত করে সাংসদ নির্বাচিত হন।

   

আরও দেখুনঃ ‘মুন্নাভাই’ স্টাইলে নিট জালিয়াতি! পরীক্ষার্থীর বদলে পরীক্ষা দিতে গিয়ে বিহারে ধৃত ২৪

তবে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও কারাগারের সীমাবদ্ধতার কারণে এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং জনগণের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ কার্যত সম্ভব হচ্ছে না এই অভিযোগই তিনি দীর্ঘদিন ধরে তুলে আসছেন। সাম্প্রতিক ইস্তফার ইঙ্গিত সেই হতাশারই প্রকাশ বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে।

এই ঘটনার মাঝেই তাঁর রাজনৈতিক দল ‘আওয়ামী ইত্তেহাদ পার্টি’ (AIP) জানিয়েছে,দল এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রশিদের পদত্যাগ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তারা বারামুল্লা কেন্দ্রের স্থানীয় কর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের মতামত নেবে। দলীয় নেতৃত্বের মতে, জনগণের ইচ্ছাকেই তারা সর্বাধিক গুরুত্ব দেবে।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একজন কারাবন্দি সাংসদের সংসদীয় ভূমিকা কতটা কার্যকর হতে পারে, তা নিয়েই আবারও জাতীয় স্তরে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে এমন পরিস্থিতিতে যখন একজন সাংসদ সংসদে উপস্থিত থাকতে পারেন না, তখন তাঁর নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব কতটা কার্যকর হচ্ছে এই প্রশ্নও সামনে আসছে।

এর পাশাপাশি আরও একটি বিতর্কিত ঘটনার কারণে সম্প্রতি তিনি আলোচনায় আসেন। চলতি বছরের মার্চ মাসে (২০২৬) সংসদে বক্তব্য রাখার সময় তিনি তাঁর এক মাসের বেতন ইরানের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে দান করার ঘোষণা করেন। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে তাঁর এই সিদ্ধান্ত নতুন করে বিতর্ক তৈরি করে। সমর্থকরা এটিকে মানবিক অবস্থান হিসেবে দেখলেও সমালোচকরা একে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।