ইস্টবেঙ্গলে বড় ধাক্কা! বিদায়ের পথে থাংবই সিংটো

দল গঠনের অন্যতম কারিগর থাংবই সিংটো ইস্টবেঙ্গল ছাড়তে পারেন বলে জোর গুঞ্জন। নতুন মরশুমের আগে এই খবরে উদ্বেগে লাল-হলুদ সমর্থকরা।

thangboi-singto-set-to-leave-east-bengal-before-new-season

বিট্টু দত্ত, কলকাতা: নতুন মরশুম শুরুর আগেই বড় ধাক্কা খেল ইস্টবেঙ্গল (East Bengal)। ক্লাবের সাম্প্রতিক সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারিগর থাংবই সিংটো লাল-হলুদ শিবির ছাড়তে চলেছেন বলে জোর গুঞ্জন ফুটবল মহলে। গত কয়েক বছরে ইস্টবেঙ্গলের ফুটবল কাঠামো গড়ে তোলা, সঠিক খেলোয়াড় নির্বাচন এবং দল নির্মাণে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই তাঁর বিদায়কে শুধু একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং ক্লাবের জন্য বড় ক্ষতি বলেই মনে করছেন সমর্থকরা।

Also Read | কেভিন সিভিলেকে ঘিরে লড়াই! ইস্টবেঙ্গল ছাড়ার পথে এই আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার

   

দীর্ঘ সময় ধরে সাফল্যের খোঁজে থাকা ইস্টবেঙ্গলকে নতুন পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে থাংবইয়ের অবদান অনস্বীকার্য। হেড অফ ফুটবল হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি শুধু দল গঠনের কাজই করেননি, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তি তৈরি করেছিলেন। ভারতীয় ও বিদেশি ফুটবলার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তাঁর দূরদৃষ্টি বারবার প্রশংসিত হয়েছে। কোচিং স্টাফের সঙ্গে সমন্বয় রেখে এমন একটি দল তৈরি করেছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত জাতীয় স্তরে সাফল্য এনে দিতে সক্ষম হয়।

Also Read | টি-টোয়েন্ট বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ভারতীয় স্পিনারের, নতুন বাজি ‘আনকোরা’ প্রেমা

বিশেষ করে খেলোয়াড় স্কাউটিংয়ের ক্ষেত্রে থাংবইয়ের দক্ষতা ছিল অসাধারণ। বিভিন্ন টুর্নামেন্ট এবং লিগ থেকে প্রতিভাবান ফুটবলারদের খুঁজে এনে তিনি ইস্টবেঙ্গলের শক্তি অনেকটাই বাড়িয়ে দেন। তাঁর সুপারিশেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় ফুটবলার ক্লাবে যোগ দেন। অনেক ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং বিশ্বাসের সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে তিনি ফুটবলারদের ইস্টবেঙ্গলে আসতে রাজি করিয়েছিলেন।

শুধু খেলোয়াড় নির্বাচন নয়, কোচিং বিভাগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেও তিনি দলের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ম্যাচ বিশ্লেষণ, ট্রান্সফার পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণ—সব ক্ষেত্রেই তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি ছিল। ফলে ইস্টবেঙ্গলের সাম্প্রতিক সাফল্যের নেপথ্যে থাংবই সিংটোর অবদানকে আলাদা করে উল্লেখ করতেই হয়।

Also Read | FIFA World Cup: মেক্সিকোর নকআউট নিশ্চিত, কাতারকে ৬ গোল দিল কানাডা

এবার সেই অধ্যায়ের ইতি ঘটতে চলেছে। সূত্রের খবর, তিনি আইএসএলের নতুন শক্তি হিসেবে উঠে আসা স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লির সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবুও ফুটবল মহলে এই খবর প্রায় নিশ্চিত বলেই ধরা হচ্ছে। নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণের লক্ষ্যেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে থাংবইয়ের বিদায়ের পর ইস্টবেঙ্গলের ফুটবল বিভাগের দায়িত্ব কার হাতে যাবে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্লাবের ফুটবল সচিব সৈকত গঙ্গোপাধ্যায়কে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যেতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। তবে থাংবইয়ের মতো অভিজ্ঞ এবং দক্ষ ফুটবল প্রশাসকের শূন্যতা পূরণ করা সহজ হবে না।
নতুন মরশুমে দল গঠনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন একজন কর্মকর্তার বিদায় নিঃসন্দেহে ইস্টবেঙ্গলের জন্য চিন্তার বিষয়। এখন দেখার, এই পরিবর্তনের প্রভাব মাঠের পারফরম্যান্সে কতটা পড়ে এবং ক্লাব কর্তারা কীভাবে সেই শূন্যতা পূরণ করেন।