বিট্টু দত্ত, কলকাতা: ফিফা বিশ্বকাপের (FIFA World Cup) গ্রুপ পর্বে আয়োজক দেশগুলোর দাপট আরও একবার চোখে পড়ল ফুটবলপ্রেমীদের। একদিকে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয়ে প্রথম দল হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করল আয়োজক মেক্সিকো। অন্যদিকে গত বিশ্বকাপের আয়োজক কাতারকে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করে নিজেদের শক্তির পরিচয় দিল কানাডা। একই দিনে বড় জয় পেয়েছে সুইজারল্যান্ডও।
গ্রুপের শীর্ষস্থান দখলের লক্ষ্যে মাঠে নেমেছিল মেক্সিকো এবং দক্ষিণ কোরিয়া। প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়ায় দুই দলই শুরুতে খুব বেশি ঝুঁকি নিতে চায়নি। ফলে ম্যাচের প্রথমার্ধে আক্রমণাত্মক ফুটবলের বদলে দেখা যায় সতর্ক ও হিসেবি লড়াই। ঘরের মাঠে সমর্থকদের উৎসাহে মেক্সিকো শুরুটা কিছুটা ভালো করলেও গোলের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেনি।
প্রথমার্ধে মেক্সিকো কয়েকটি আক্রমণ গড়ে তুললেও অধিকাংশ শটই লক্ষ্যে ছিল না। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া ছোট ছোট পাসে খেলা গড়ে তুলে মেক্সিকোর রক্ষণ ভাঙার চেষ্টা করে। মাঝমাঠে বলের দখল ধরে রেখে সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছিল কোরিয়ানরা। পরে তারা কৌশল বদলে নিজেদের অর্ধ থেকে খেলা তৈরি করে মেক্সিকোর ডিফেন্ডারদের সামনে টেনে আনার চেষ্টা করে, যাতে দ্রুত লং পাসে আক্রমণে ওঠা যায়। কিন্তু
মেক্সিকোর সংগঠিত রক্ষণভাগের সামনে সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। ফলে প্রথম ৪৫ মিনিট গোলশূন্যভাবেই শেষ হয়।
বিরতির পর ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় এগিয়ে যায় মেক্সিকো। একটি ভাসানো বল ধরতে গিয়ে গোলরক্ষক কিম সেউং-গিউ গুরুতর ভুল করেন। বল হাতে নিয়েও মাটিতে পড়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারান তিনি। সেই সুযোগে সামনে থাকা লুইস রোমো বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন। গোল হজম করার পর দক্ষিণ কোরিয়া সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালালেও মেক্সিকোর রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা। টানা দুই ম্যাচে পূর্ণ তিন পয়েন্ট সংগ্রহ করে দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা নিশ্চিত করে নেয় মেক্সিকো।
অন্য ম্যাচে কানাডা যেন গোল উৎসবেই মেতে ওঠে। কাতারের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে উত্তর আমেরিকার দলটি। ম্যাচের এক পর্যায়ে কাতার দুই খেলোয়াড় হারিয়ে নয় জনে নেমে এলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যায় তাদের জন্য। সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগায় কানাডা।
দলের সবচেয়ে বড় তারকা হয়ে ওঠেন জোনাথন ডেভিড। দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে তিনি একাই কাতারের রক্ষণকে তছনছ করে দেন। তাঁর পাশাপাশি গোল করেন কাইল লারিন এবং নাথান সালিবা। কানাডার ষষ্ঠ গোলটি আসে কাতারের ডিফেন্ডার মহম্মদ মানাইয়ের আত্মঘাতী গোল থেকে। ৬-০ ব্যবধানের এই জয় শুধু তিন পয়েন্টই এনে দেয়নি, টুর্নামেন্টে কানাডার শক্তির বার্তাও পৌঁছে দিয়েছে।
দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ৪-১ গোলে পরাজিত করেছে সুইজারল্যান্ড। ম্যাচের নায়ক জোহান মানজাম্বি জোড়া গোল করেন। এছাড়া দলের হয়ে গোলের খাতা খোলেন রুবেন ভার্গাস এবং অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার গ্রানাইট জাকা। বসনিয়ার হয়ে একমাত্র সান্ত্বনার গোলটি করেন এরমিন মাহমিচ।
গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচগুলোর পর চিত্র ক্রমশ পরিষ্কার হতে শুরু করেছে। মেক্সিকো ইতিমধ্যেই নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করেছে, কানাডা নিজেদের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে তুলে ধরেছে, আর সুইজারল্যান্ডও বড় জয় পেয়ে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। বিশ্বকাপের উত্তাপ এখন আরও বাড়তে শুরু করেছে।



