কেভিন সিভিলেকে ঘিরে লড়াই! ইস্টবেঙ্গল ছাড়ার পথে এই আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার

ইস্টবেঙ্গলের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার কেভিন সিভিলেকে নিয়ে জোর টানাপোড়েন। মোহনবাগান ও ইন্দোনেশিয়ার পারসিব বান্দুংয়ের আগ্রহে বাড়ছে জল্পনা।

Kevin Sibille

বিট্টু দত্ত, কলকাতা: লাল-হলুদ (East Bengal) শিবিরে এক যুগের সমাপ্তি না হলেও, একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হতে চলেছে। গত আইএসএল মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণভাগের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মুখ ছিলেন আর্জেন্টাইন সেন্টার-ব্যাক কেভিন সিভিলে। শক্তিশালী ট্যাকল, দুর্দান্ত পজিশনিং এবং নেতৃত্বগুণ দিয়ে তিনি সমর্থকদের মন জয় করেছিলেন। কিন্তু নতুন মরশুমের আগে কার্যত নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে যে ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে আর দেখা যাবে না এই তারকা ডিফেন্ডারকে।

তবে তাঁর পরবর্তী গন্তব্য কোথায়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। ভারতীয় ফুটবলের অন্দরমহলে জোর গুঞ্জন, কেভিনের জন্য মোটা অঙ্কের প্রস্তাব দিয়েছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। সবুজ-মেরুন শিবির আগামী মরশুমে রক্ষণভাগ আরও শক্তিশালী করতে চায় এবং সেই কারণেই কেভিনকে তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

   

অন্যদিকে শুধু ভারত নয়, বিদেশ থেকেও এসেছে আকর্ষণীয় প্রস্তাব। ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী ক্লাব Persib Bandung কেভিনকে দলে টানতে আগ্রহী। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবল বাজারে এখন বড়সড় বিনিয়োগ চলছে এবং সেই প্রেক্ষাপটে পারসিব বান্দুংয়ের অফারও যথেষ্ট লোভনীয় বলে জানা যাচ্ছে।ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, কেভিন এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তাঁর প্রতিনিধিরা দুই ক্লাবের সঙ্গেই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। একদিকে মোহনবাগানের মতো ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম সফল ক্লাবে খেলার সুযোগ, অন্যদিকে বিদেশে নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়ার সম্ভাবনা— দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজছেন আর্জেন্টাইন তারকা।

ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের কাছে অবশ্য এই খবর হতাশার। গত মরশুমে দলের উত্থান-পতনের মধ্যেও কেভিন ছিলেন ধারাবাহিক। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাঁর উপস্থিতি রক্ষণভাগে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিল। ফলে তাঁকে হারানো যে দলের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে, তা মানছেন অনেকেই। ক্লাব কর্তারা অবশ্য ইতিমধ্যেই বিকল্প খোঁজার কাজ শুরু করে দিয়েছেন। বিদেশি ডিফেন্ডারের পাশাপাশি ভারতীয় বাজারেও নজর রাখা হচ্ছে বলে খবর। কারণ কেভিনের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারের শূন্যস্থান পূরণ করা সহজ হবে না। ইস্টবেঙ্গল ফুটবল সচিব সৈকত মুখার্জির বক্তব্য “কেভিন আমাদের দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিল। গত মরশুমে সে পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা এবং পারফরম্যান্স দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছে। আমরা অবশ্যই চাইতাম ওকে আরও এক মরশুম দলে রাখতে। কিন্তু একজন পেশাদার ফুটবলারের ক্যারিয়ারে নতুন সুযোগ আসতেই পারে। ক্লাব হিসেবে আমরা তার সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। এখনও চূড়ান্ত কিছু জানানো হয়নি, তবে যদি সে অন্য কোথাও যায়, তাহলে তার ভবিষ্যতের জন্য শুভেচ্ছা রইল।

একইসঙ্গে আমরা সমর্থকদের আশ্বস্ত করতে চাই, দলের স্বার্থে উপযুক্ত বিকল্প খুঁজে আনার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।” এদিকে দলবদলের বাজারে প্রতিদিনই নতুন নতুন জল্পনা তৈরি হচ্ছে। কেভিনের সিদ্ধান্ত যত দেরি হচ্ছে, ততই বাড়ছে কৌতূহল। শেষ পর্যন্ত তিনি কি কলকাতাতেই থেকে মোহনবাগানের সবুজ-মেরুন জার্সি গায়ে চাপাবেন, নাকি ইন্দোনেশিয়ার ফুটবল মঞ্চে নতুন অধ্যায় শুরু করবেন? সেই উত্তর পেতে হয়তো আর কয়েক দিনের অপেক্ষা।