গুয়াহাটি: অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা শনিবার এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন। (Assam)রাজ্য মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, ১৮ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিদের আর আধার কার্ড ইস্যু করা হবে না। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো অবৈধ অভিবাসীদের আধার কার্ড পাওয়ার পথ বন্ধ করা। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শনিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “আধার কার্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে রাজ্যে এখন স্যাচুরেশন পয়েন্টে পৌঁছে গেছে। কোনো কোনো জেলায় এটি ১০০ শতাংশেরও বেশি হয়ে গেছে। আমাদের এখন দেখতে হবে, অতিরিক্ত আধার কার্ড কারা নিচ্ছেন।” তিনি আরও জানান, এই সিদ্ধান্তের ফলে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের জন্য আধার পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে।
আরও দেখুনঃ ‘জুটত শুধু অবহেলা!’ শিলিগুড়ি পুরনিগমে সংবর্ধিত হয়ে আবেগপ্রবণ বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে জেলা কমিশনারকে রাজ্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠাতে হবে। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতে সরকার খতিয়ে দেখবে আবেদনকারী আধারের জন্য যোগ্য কি না। শুধুমাত্র সরকারের অনুমতি পেলেই তখন আধার ইস্যু করা সম্ভব হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকার চাইছে পুরো বিষয়টিকে আরও নিয়ন্ত্রিত ও স্বচ্ছ করতে।অসমে আধার কার্ড নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। এনআরসি (জাতীয় নাগরিক পঞ্জি) প্রক্রিয়ার পর থেকেই রাজ্যে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।
অনেকে মনে করেন, অবৈধ অভিবাসীরা বিভিন্ন উপায়ে আধার কার্ড সংগ্রহ করে সরকারি সুবিধা ভোগ করছেন। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “আমরা চাই না কোনো অবৈধ ব্যক্তি আধারের মাধ্যমে বৈধতা অর্জন করুক। এই সিদ্ধান্ত সেই ঝুঁকি কমাবে।”রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেক সাধারণ নাগরিক। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা অবৈধ অনুপ্রবেশের সমস্যায় ভুগছেন।
আধার কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথি যদি নিয়ন্ত্রণে আসে, তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে। তবে কিছু বিশেষজ্ঞ ও বিরোধী দলের নেতারা এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁরা বলছেন, এতে সাধারণ নাগরিকদেরও হয়রানির শিকার হতে হতে পারে। বিশেষ করে যারা নতুন করে আধার আপডেট করতে চান বা হারানো কার্ডের জন্য আবেদন করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য আশ্বাস দিয়েছেন যে, বৈধ নাগরিকদের কোনো সমস্যা হবে না। শুধুমাত্র সন্দেহজনক ক্ষেত্রগুলোই খতিয়ে দেখা হবে।এই সিদ্ধান্তের ফলে আধার কর্তৃপক্ষ ইউআইডিএআই-এর সঙ্গেও সমন্বয় করতে হবে। রাজ্য সরকার চাইছে পুরো প্রক্রিয়াটিকে আরও কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে। হিমন্তবাবু জানিয়েছেন, যেসব জেলায় আধারের সংখ্যা জনসংখ্যার চেয়ে বেশি হয়ে গেছে, সেখানে বিশেষ অভিযান চালানো হবে। কারা অতিরিক্ত কার্ড নিয়েছেন, কেন নিয়েছেন সবকিছু খতিয়ে দেখা হবে।


















