পারমিতা রায়, শিলিগুড়ি: রাজ্যে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে রাজনৈতিক বিতর্কের আবহের মধ্যেই শিলিগুড়ি জংশন রেল স্টেশন থেকে আট বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করল আরপিএফ এবং শিলিগুড়ি জিআরপির যৌথ দল। রবিবার সন্ধ্যায় চালানো বিশেষ অভিযানে ওই ব্যক্তিদের আটক করা হয়। পরে বৈধ নথিপত্র দেখাতে না পারায় তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে রেল পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। সোমবার ধৃতদের শিলিগুড়ি আদালতে তোলা হবে।
Read More: ‘অবৈধ মাদ্রাসায় শিশুদের জঙ্গি তৈরী বন্ধ করবে বিজেপি!’ বিস্ফোরক অগ্নিমিত্রা
রেল পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার সন্ধ্যায় রাধিকাপুর এক্সপ্রেসে করে ওই আটজন শিলিগুড়ি জংশন স্টেশনে পৌঁছায়। গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর থেকেই স্টেশন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। এরপর আরপিএফ এবং জিআরপির যৌথ দল অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃতরা দীর্ঘদিন ধরে দিল্লিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিল। পরে তারা বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করে। সেই উদ্দেশ্যে হলদিবাড়ি যাওয়ার জন্য শিলিগুড়ি জংশনে নেমেছিল বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তবে জিজ্ঞাসাবাদের সময় বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা বা অন্য কোনও অনুমোদিত নথি দেখাতে না পারায় তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ধৃতদের পরিচয়ও প্রকাশ করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে মোমিন, সৌরভ রায়, কামাল চন্দ্র রায় এবং অভিষেক রায় বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার বাসিন্দা। অন্যদিকে গোবিন্দ রায়, সঞ্জিত রায়, টিটন চন্দ্র রায় এবং জয়ন্ত রায় নীলফামারী জেলার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।
Read More: ঋতব্রতর পর কাকলির দলে ১০ সাংসদ! আগামীকালই পেশ হবে অভিষেক বিরোধী চিঠি
ঘটনার পর রেল স্টেশন এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলিতেও তল্লাশি বাড়ানো হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
রাজ্যে অনুপ্রবেশ নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, ধৃতদের ভারতে প্রবেশের পদ্ধতি কী ছিল এবং তাঁদের সঙ্গে আরও কোনও চক্র জড়িত রয়েছে কি না।
শিলিগুড়ি জংশন জিআরপি জানিয়েছে, ধৃত আটজনকে সোমবার আদালতে পেশ করা হবে। পাশাপাশি গোটা ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।




















