ফের রাজ্যে যোগী দাওয়াই! সাত সকালে সিল হল অবৈধ মাদ্রাসা

গাজিয়াবাদ: ফের যোগী রাজ্য উত্তরপ্রদেশে সিল হল অবৈধ মাদ্রাসা। গাজিয়াবাদ (Ghaziabad)জেলায় অবৈধ ও অনুমোদনহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কড়া অভিযানের মধ্যে এবার সিলগালা করা হল লোনির অশোক বিহার ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
Ghaziabad illegal madrasa sealed

গাজিয়াবাদ: ফের যোগী রাজ্য উত্তরপ্রদেশে সিল হল অবৈধ মাদ্রাসা। গাজিয়াবাদ (Ghaziabad)জেলায় অবৈধ ও অনুমোদনহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কড়া অভিযানের মধ্যে এবার সিলগালা করা হল লোনির অশোক বিহার এলাকায় অবস্থিত মাদ্রাসা ইসলামিয়া কাশিফুল উলুমকে। জেলা প্রশাসনের দাবি, প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও নথিপত্র ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছিল। একাধিকবার নোটিশ পাঠানো হলেও সন্তোষজনক জবাব না মেলায় শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে মাদ্রাসাটি সিল করে দেওয়া হয়।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলা সংখ্যালঘু কল্যাণ আধিকারিক কৈলাশ চন্দ্র তিওয়ারির নেতৃত্বে পরিচালিত তদন্তে উঠে আসে যে মাদ্রাসা ইসলামিয়া কাশিফুল উলুম সংখ্যালঘু কল্যাণ দফতরের অধীনে নিবন্ধিত ছিল না। শুধু তাই নয়, প্রতিষ্ঠানটির কাছে কোনও বৈধ স্বীকৃতি বা শংসাপত্রও ছিল না। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর আইনগত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।

   

আরও দেখুনঃ সিংহভাগ কাউন্সিলর না আসায় বাতিল মমতার বৈঠক

তদন্তে আরও বেশ কিছু গুরুতর অনিয়মের তথ্য সামনে আসে। প্রশাসনের দাবি, মাদ্রাসাটির কাছে অগ্নিনির্বাপণ দফতরের ফায়ার সেফটি অনাপত্তি শংসাপত্র (এনওসি) ছিল না। একইভাবে বিদ্যুৎ সংক্রান্ত নিরাপত্তা ও অনুমোদনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অভাব দেখা যায়। এই ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে মৌলিক বিধি ও নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক, সেগুলির বেশ কয়েকটি মানা হয়নি বলেই অভিযোগ।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আগে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। তাদের কাছে প্রয়োজনীয় নথি এবং বৈধতার প্রমাণ জমা দেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক উত্তর বা বৈধ কাগজপত্র জমা না পড়ায় প্রশাসন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।

ডিসিপি দেহাত সুরেন্দ্র নাথ তিওয়ারি জানিয়েছেন, লোনির অশোক বিহার থানার আওতায় থাকা এই মাদ্রাসাটি সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিচালিত হচ্ছিল। সিলগালার সময় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে কোনওভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। অভিযানের সময় চারজন এসিপি, ছয়জন থানা ইনচার্জ এবং বিপুল সংখ্যক পুলিশকর্মী মোতায়েন ছিলেন। প্রশাসনের দাবি, গোটা প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে এবং কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

উল্লেখযোগ্যভাবে, গাজিয়াবাদ জেলায় সম্প্রতি অবৈধ ও অস্বীকৃত ধর্মীয় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান শুরু হয়েছে। প্রশাসনের মতে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় বহু প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের বৈধতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক নথিপত্র খতিয়ে দেখতে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে।

প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, সম্প্রতি এক কিশোরের হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নথিপত্র যাচাই করা হচ্ছে। গত কয়েকদিনে গাজিয়াবাদের খোড়া এবং কনাওয়ানি এলাকাতেও একাধিক অনুরূপ মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে সিল করা হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই কর্তৃপক্ষের কাছে বৈধ অনুমোদনের প্রমাণ চাওয়া হয়েছে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google