কলকাতা পুরসভার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমউদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার সকালে জোড়াসাঁকো এলাকার তাঁর বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ, এক নাবালিকাকে হেনস্থা এবং পুরনো মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়ার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার ভোর থেকেই কাউন্সিলরের বাড়ির সামনে জোড়াসাঁকো থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা মোতায়েন ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে দরজা না খোলায় পুলিশ বাইরে অপেক্ষা করে। প্রায় ছ’ঘণ্টা পর বাইরে থেকে তালা খুলে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে পুলিশ। এরপরই মহম্মদ জসিমউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। ঘটনার পরপরই কাউন্সিলরের সমর্থকেরা বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অন্যদিকে, বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের সমর্থকরাও প্রতিবাদে সামিল হন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে।
তদন্তকারীদের দাবি, প্রায় তিন বছর আগে ওই এলাকার এক নাবালিকাকে হেনস্থার একটি অভিযোগ উঠেছিল, যেখানে কাউন্সিলরের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির নামও সামনে আসে। সেই ঘটনার পর থেকে মামলা চলছিল। বর্তমানে ওই নাবালিকা প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে কলেজে পড়াশোনা করছে। অভিযোগ, সম্প্রতি আবারও তাকে হেনস্থা করা হয় এবং পুরনো মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ ও হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগে কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠদের পাশাপাশি সরাসরি তাঁর নামও জড়িয়েছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।
নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই তারা ভয় ও চাপের মধ্যে রয়েছে। নাবালিকার মা জানান, বারবার ভয় দেখানো এবং মানসিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে তাঁদের পরিবারকে। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই তাঁরা নতুন করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়। অভিযোগপত্রে বেআইনি কার্যকলাপ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, ভয় দেখানো, শ্লীলতাহানি এবং নির্যাতিতার পরিচয় প্রকাশের মতো গুরুতর অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে।




















