বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) অন্দরে যে অস্থিরতা ও পুনর্গঠনের চাপ তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব এবার সরাসরি এসে পড়েছে কলকাতা পুরসভায় (KMC)। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরে এই টানাপোড়েন আরও ঘনীভূত হয়েছে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) পদত্যাগকে কেন্দ্র করে। যদিও তিনি মেয়রের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, তবু এখনও পর্যন্ত পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়নি, ফলে তৈরি হয়েছে এক ধরনের অনিশ্চয়তা।(Mamata Banerjee)
এই চরম পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে হাঁটছে তৃণমূল শিবির। দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা পুরসভার ভবিষ্যৎ এবং নতুন রণকৌশল নির্ধারণ করতে রবিবারই জরুরি বৈঠক ডেকেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রাজনৈতিক মহলে এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে দেখা হচ্ছে, কারণ এখানেই পুর প্রশাসনের পরবর্তী রূপরেখা ঠিক হতে পারে। জানা গিয়েছে, রবিবার বিকেলেই দিল্লি যাওয়ার কর্মসূচি রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। তবে তার আগেই শহরের বাইপাস সংলগ্ন তৃণমূল ভবনে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আয়োজন করা হচ্ছে। বিকেল ৩টের পর বৈঠক শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দলীয় অন্দরের খবর, সময় খুব কম থাকলেও পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে এই বৈঠক অত্যন্ত দ্রুত ডাকা হয়েছে।
অন্যদিকে প্রশাসনিক স্তরে চাপ আরও বাড়িয়েছে রাজ্য পুর দফতরের সাম্প্রতিক নির্দেশ। সূত্র অনুযায়ী, কলকাতা পুরসভাকে ইতিমধ্যেই কড়া চিঠি পাঠানো হয়েছে, যেখানে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে আগামী তিন দিনের মধ্যে নতুন মেয়রের নাম চূড়ান্ত করে জানাতে হবে। এই সময়সীমার মধ্যে সিদ্ধান্ত না এলে আইন অনুযায়ী বর্তমান পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
এই প্রশাসনিক ‘আলটিমেটাম’ ঘিরেই রাজনৈতিক অস্বস্তি আরও বেড়েছে শাসকদলের মধ্যে। কারণ, মেয়রের পদত্যাগের পর এখন পুরসভা কার্যত নেতৃত্বশূন্য অবস্থার দিকে এগোচ্ছে। ফলে দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা উন্নয়নমূলক কাজ ও নাগরিক পরিষেবাকে প্রভাবিত করতে পারে। দলীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, রবিবারের এই জরুরি বৈঠকে কলকাতার সমস্ত তৃণমূল কাউন্সিলরদের সশরীরে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুখ। বৈঠকে পুর প্রশাসনের ভবিষ্যৎ কাঠামো, নেতৃত্ব নির্বাচন এবং রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার বিষয়গুলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হবে।
সব মিলিয়ে, রবিবারের বৈঠককে ঘিরে তীব্র নজরদারি রয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে প্রশাসনিক স্তরেও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বৈঠকেই কলকাতা পুরসভার ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, তা নিয়ে কৌতূহল এখন তুঙ্গে। সিদ্ধান্ত যে দিকেই যাক না কেন, তা শহরের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।




















