হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের তৃণমূল কর্মী ব্রহ্মানন্দ চক্রবর্তীকে ঘিরে চাঞ্চল্য। (TMC leader)রাজ্যজুড়ে পালাবদলের আবহে দুর্নীতি এবং ২০২১ র ভোট পরবর্তী হিংসায় জড়িত থাকার কারণে চলছে ধরপাকড়। পুলিশের জালে ধরা পড়ছেন একের পর এক দুর্নীতিতে যুক্ত তৃণমূল নেতা। এই আবহেই কাটমানি এবং ২০২১ হিংসার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের তৃণমূল নেতা ব্রহ্মানন্দ। পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে শাড়ির স্তূপের মধ্যে লুকিয়েছিলেন তিনি এমনটাই জানা গিয়েছে সূত্রের খবরে। কিন্তু সেখানে লুকিয়ে থেকেও শেষ রক্ষা হয়নি। শাড়ির স্তূপ সরিয়ে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ।
ব্রহ্মানন্দ চক্রবর্তীকে নিয়ে যে ঘটনাটি বারবার আলোচনায় আসে, সেটি ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী রাজনৈতিক অশান্তির সময়কার। অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে খুঁজতে গিয়ে পুলিশ বাড়ির বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালায়। তদন্তকারীদের দাবি অনুযায়ী, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ব্রহ্মানন্দ চক্রবর্তী নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করেন।
আরও দেখুনঃ সোমবার প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীকে থানায় হাজিরার নির্দেশ পুলিশের
তিনি ঘরের ভেতরে জামাকাপড় ও কাপড়ের স্তূপের নিচে লুকিয়ে ছিলেন বলে জানা যায়। তবে সেই কৌশল শেষ পর্যন্ত কাজে আসেনি। পুলিশ তল্লাশির সময় তাঁকে ওই অবস্থান থেকেই খুঁজে বের করে এবং পরে আটক করে। সে সময় ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং সংবাদমাধ্যমেও তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছিল।
এই প্রসঙ্গেই পুলিশের হাত থেকে বাঁচার আরও একটি অভিনব ঘটনা সম্প্রতি সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। কোচবিহার জেলার মাথাভাঙা এলাকায় এক তৃণমূল নেতাকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। ওই নেতার নাম শাহিদুল মিয়াঁ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবাস যোজনার অর্থ নিয়ে ‘কাটমানি’ ফেরতের দাবিতে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের একটি অংশ তাঁর বাড়ি ঘেরাও করে। অভিযোগ ছিল, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা নেওয়া হয়েছিল এবং সেই অর্থ ফেরত চেয়ে বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।
পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষুব্ধ জনতার চাপ বাড়তে থাকলে শাহিদুল মিয়াঁ নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। অভিযোগ, জনতার হাত থেকে বাঁচার জন্য তিনি বাড়ির ভেতরে একটি খাটের নিচে আশ্রয় নেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে চাঞ্চল্য তৈরি হয় এবং বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে এই ধরণের ঘটনা এই মুহূর্তে রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট উত্তেজনা তৈরী করেছে এবং বাংলার নতুন বিজেপি সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে দুর্নীতিতে জড়িত নেতারা কোনও মোটেই আইনের ফাঁক খুঁজে বেরোতে পারবেন না।




















