কলকাতা: বঙ্গে পুরভোট কবে হবে, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও নিশ্চিত সময়সীমা রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে ঘোষণা করা হয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে এই নিয়ে ইতিমধ্যেই পারদ চড়তে শুরু করেছে। এর মাঝেই রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের একটি মন্তব্যকে ঘিরে বঙ্গে পুরভোটের দামামা কার্যত বেজে গেল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। আগামী নভেম্বর মাসেই রাজ্যের সমস্ত পুরসভায় নির্বাচন হতে পারে বলে বড়সড় ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। (Dilip Ghosh hints at November municipal elections in West Bengal)
বঙ্গে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর থেকেই তৃণমূলের একাধিক হেভিওয়েট নেতার গ্রেফতারি নিয়ে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়। এই আবহে মেদিনীপুরের বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, “এটা তো সবে শুরু। এবার সময় গুনতে থাকুন, ঠক বাছতে গাঁ উজাড় হয়ে যাবে।” তাঁর দাবি, রাজ্যে অবিলম্বে অন্তত এক থেকে দেড় হাজার অত্যন্ত অপরাধী ও লুটেরা চরিত্রের মানুষকে গ্রেফতার করা উচিত, কারণ এদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের প্রচণ্ড ক্ষোভ রয়েছে। কোনও রকম অপ্রীতিকর অঘটন এড়াতে এদের দ্রুত জেলে পোরা দরকার বলে মনে করেন মন্ত্রী।
সম্প্রতি কলকাতা পুরসভার মেয়রের পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফা এবং তাঁর ‘নিধিরাম সর্দার’ মন্তব্যকে তীব্র উপহাস করেন দিলীপ ঘোষ। ববি হাকিমকে বিঁধে তিনি বলেন, “এতদিন উনি কী করতেন? মাটিতে বসতেন নাকি ভরতের মতো খড়ম পরে পুজো করতেন?” এই ইস্তফাকে ‘নাটক’ বলে আখ্যা দিয়ে তিনি যোগ করেন, “এই নাটক তো দিদির কাছ থেকেই শেখা। এখন চুপচাপ থাকাই ভালো। গত ১৫ বছর মানুষ সব দেখেছে, ইঞ্চি থেকে ফুট, সব ধরনের নেতার কথাই মানুষ মনে রেখেছে।”
বিদায়ী শাসক দলের দিকে আঙুল তুলে দিলীপ বাবু অভিযোগ করেন যে, তৃণমূলের একাংশ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করেছে। তাঁর কথায়, “মানুষকে অবজ্ঞা করা হয়েছে, আর এখন তারই ফল ভোগ করতে হচ্ছে।”
এদিন পুরভোটের সম্ভাব্য সময়সীমার ইঙ্গিত দেওয়ার পাশাপাশি দিলীপ ঘোষ দাবি করেন, কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকারের কাজের ফলেই আজ রাজ্যে উন্নয়নের এক নতুন ধারা তৈরি হচ্ছে। জঙ্গলমহল থেকে উত্তরবঙ্গ, সর্বত্র যে গতিতে কাজ এগোচ্ছে, তাতে পশ্চিমবঙ্গ আগামী দিনে গোটা দেশের নেতৃত্ব দেবে বলে অত্যন্ত আশাবাদী রাজ্যের এই দাপুটে মন্ত্রী।




















