কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল আবারও প্রকাশ্যে। (Kalyan Banerjee)এবার দলেরই প্রবীণ নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের বিধায়ক জাভেদ খান ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। কল্যাণবাবু দাবি করেছেন, জাভেদ খানের পরিবার অবৈধ নির্মাণ ও অস্বচ্ছ ফ্ল্যাট বিক্রির সঙ্গে জড়িত। ভেঙে দেওয়ার নোটিশ জারি হওয়ার পর তিনি এখন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু আধিকারির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে সেই অবৈধ নির্মাণগুলিকে নিয়মিত করার চেষ্টা করছেন।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “জাভেদ খানের পরিবার অবৈধ নির্মাণ ও ঘোলাটে ফ্ল্যাট বিক্রির সঙ্গে জড়িত। যখন সেই নির্মাণগুলিতে ভেঙে দেওয়ার নোটিশ এসেছে, তখন তিনি এখন শুভেন্দু আধিকারির কাছে ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন যাতে সেগুলোকে রেগুলারাইজ করা যায়।” তাঁর এই অভিযোগ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।জাভেদ খান দক্ষিণ কলকাতার একজন প্রভাবশালী তৃণমূল বিধায়ক।
আরও দেখুনঃ অ্যান্টার্টিকার হিমবাহের রঙ রক্তের মতো লাল, ব্লাড ফলসের রহস্য কী?
তাঁর পরিবারের বিভিন্ন প্রকল্পে অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে উঠছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, বিভিন্ন জায়গায় নিয়ম না মেনে বহুতল বাড়ি তৈরি করে সেগুলোকে ফ্ল্যাট হিসেবে বিক্রি করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতারা পরে হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতা পুরসভা ও অন্যান্য প্রশাসনিক দফতর থেকে কয়েকটি নির্মাণে ভেঙে দেওয়ার নোটিশ জারি হয়।
এর পর থেকেই জাভেদ খানের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এই সংকট সামলাতে জাভেদ খান এখন অন্য পথ খুঁজছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিধায়ক এখন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু আধিকারির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছেন যাতে প্রশাসনিক স্তরে হস্তক্ষেপ করে অবৈধ নির্মাণগুলিকে বৈধতা দেওয়া হয়।
কল্যাণ আরও বলেন, দলের মধ্যে এই ধরনের অনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া উচিত নয়।এই অভিযোগের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দলের একাংশ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে সাহসী বলে সমর্থন করলেও, আরেক অংশ মনে করছে এটা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা। জাভেদ খানের ঘনিষ্ঠ মহল অবশ্য এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।




















