পাটনা: বিহারের কোচিং জগতে দীর্ঘদিনের প্রতিযোগিতা এবার রাস্তায় নেমে এসেছে। (Khan Sir)জনপ্রিয় শিক্ষক ফৈজল খান ওরফে খান স্যারের বিরুদ্ধে পাটনা পুলিশ এফআইআর দায়ের করেছে। তাঁকে গ্রেফতার করতে অভিযানও শুরু হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত বিহার পুলিশ নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল ঘিরে দুই কোচিং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তুমুল বিরোধ থেকে।খান স্যারের প্রতিষ্ঠান খান গ্লোবাল স্টাডিজ দাবি করেছিল, তাদের প্রায় ১২,০০০ শিক্ষার্থী বিহার পুলিশে নির্বাচিত হয়েছে।
এই দাবির বিরোধিতা করে জ্ঞান বিন্দু একাডেমির কর্তৃপক্ষ জানায়, সংখ্যাটা আসলে ১০,০০০-এর কাছাকাছি। এই বিতর্ক দ্রুত তিক্ততায় রূপ নেয়। অভিযোগ উঠেছে, জ্ঞান বিন্দুর লোকজন খান স্যারের প্রতিষ্ঠানের সামনে পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে এবং পরে পাথর ছুড়ে হামলা চালায়।পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় যখন খান স্যার নিরাপত্তারক্ষীদের গুলি চালানোর নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর তিনি অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
আরও দেখুনঃ শিলিগুড়িতে টোটো চলাচলের অনুমতির দাবিতে বিক্ষোভ, পথে নামলেন চালকরা
কিন্তু সিসিটিভি ফুটেজ ও ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরাই গুলি চালিয়েছেন। এরপর পুলিশ খান স্যারের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে এফআইআর দায়ের করে। বর্তমানে তাঁকে গ্রেফতার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।এই ঘটনা পাটনার কোচিং মহলে বড় আলোড়ন ফেলেছে। খান স্যার বিহারে অত্যন্ত জনপ্রিয়। সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে তাঁর সস্তায় উচ্চমানের পড়ানোর ধরন ব্যাপকভাবে সমাদৃত।
তাঁর ইউটিউব চ্যানেলেও লক্ষ লক্ষ অনুসারী। অন্যদিকে জ্ঞান বিন্দুও বিহার পুলিশ পরীক্ষায় ভালো ফল করেছে বলে দাবি করে। দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সাফল্যের দাবি নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা এবার হিংসায় রূপ নিয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সত্য উদঘাটন করা হচ্ছে। খান স্যারের দুই নিরাপত্তারক্ষীকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে।
তাঁরা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন যে খান স্যারের নির্দেশেই তাঁরা গুলি চালিয়েছিলেন। অস্ত্রগুলি ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে। পুলিশ আরও বলেছে, কোনো পক্ষকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।ঘটনার পর খান স্যারের প্রতিষ্ঠানের সামনে শত শত ছাত্র জড়ো হয়ে প্রতিবাদ করে। তাঁরা দাবি করেন, খান স্যারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। অন্যদিকে জ্ঞান বিন্দুর কর্মীরা বলছেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠানের উপর হামলা হয়েছে এবং খান স্যার পক্ষই প্রথমে উস্কানি দিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দুই কোচিংয়ের মধ্যে এই রেষারেষি ছাত্রদের পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট করছে।




















