স্পোর্টস ডেস্ক, কলকাতা: মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের (Mohammedan SC) প্রশাসনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। ক্লাব সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই সাদা-কালো ব্রিগেডের নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন হুমায়ুন কবীর। শুক্রবার ক্লাবের পক্ষ থেকে নতুন সভাপতি ও সচিবের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা আর্থিক সংকট এবং মাঠের ব্যর্থতার পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রশাসনিক রদবদলকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
গত মরশুম থেকেই চরম আর্থিক সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে মহামেডান। পর্যাপ্ত আর্থিক সংস্থান না থাকায় বিদেশি ফুটবলার ছাড়াই আইএসএলে অংশ নিতে হয়েছিল দলকে। তার প্রভাব পড়ে মাঠের পারফরম্যান্সেও। প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল করতে ব্যর্থ হয় মহামেডান এবং শেষ পর্যন্ত অবনমনের মুখে পড়তে হয় তাদের। দলের এই হতাশাজনক ফলাফলের পর থেকেই ক্লাব কর্তাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন সদস্য ও সমর্থকেরা। প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে বর্তমান প্রশাসনকে।
Read More: আর ‘জেড’ নন, এবার ‘ওয়াই ক্যাটাগরি’! সৌরভের নিরাপত্তা কমাল বিজেপি সরকার
এই পরিস্থিতিতে ক্লাবের ভেতরে পরিবর্তনের দাবি ক্রমশ জোরালো হয়ে ওঠে। সেই দাবিকে গুরুত্ব দিয়েই বর্তমান কর্তারা নতুন নেতৃত্বের জন্য পথ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। বর্তমান সভাপতি আমিরুদ্দিন ববির স্থলাভিষিক্ত হতে চলেছেন হুমায়ুন কবীর। সভাপতি পদে দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন সচিব নির্বাচন করার ক্ষমতাও তাঁর হাতেই থাকবে।
ক্লাব মহলে ইতিমধ্যেই সচিব পদের জন্য কয়েকটি নাম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম নাম ওয়াসিম আক্রম। অতীতে মহামেডানের প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ফলে নতুন কমিটিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পেতে পারেন বলেই মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, কয়েক সপ্তাহ আগেই মহামেডান ক্লাবের পক্ষ থেকে হুমায়ুন কবীরের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানানো হয়েছিল ক্লাবের জন্য উপযুক্ত বিনিয়োগকারী বা ইনভেস্টর খুঁজে দেওয়ার। ক্লাবের আর্থিক সঙ্কট কাটাতে এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। হুমায়ুনও ক্লাব কর্তাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন যে তিনি বিনিয়োগকারী আনার ব্যাপারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
Read More: চোটের কারণে নেই রায়ান, তাজিকিস্তানের বিরুদ্ধে বিকল্প কে?
রাজনীতির ময়দানেও হুমায়ুন কবীর সম্প্রতি আলোচনায় ছিলেন। বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হন এবং পরে নিজস্ব রাজনৈতিক দল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ গঠন করেন। নির্বাচনে দুটি কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করে তিনি রাজনৈতিকভাবেও নিজের অবস্থান মজবুত করেন।
এখন মহামেডানের সমর্থকদের আশা, নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে ক্লাব আবার আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরে পাবে এবং প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে নিজেদের হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবে। নতুন ফুটবল মরশুম শুরুর আগে এই প্রশাসনিক পরিবর্তন সাদা-কালো শিবিরে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। সমর্থকদের বিশ্বাস, সঠিক পরিকল্পনা ও আর্থিক সহায়তা পেলে মহামেডান আবারও দেশের অন্যতম শক্তিশালী ক্লাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে।


















