কলকাতা:বঙ্গে পুর বোর্ড পতনের পালায় এবার বড়সড় ধাক্কা বিধাননগর পুরনিগমে। কলকাতা পুরসভার মেয়রের পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফা দেওয়ার ইঙ্গিতের রেশ কাটতে না কাটতেই, এবার বিধাননগর পুরনিগমের মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সঙ্গী বৃহস্পতিবারই পুর কমিশনারের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। এই আকস্মিক ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কি এবার বিধাননগর পুরনিগমও তৃণমূলের হাতছাড়া হতে চলেছে?
রাজ্যে তৃণমূলের প্রশাসনিক ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার পর থেকেই গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত টলমলে। দলের অন্দরে কার্যত ‘মহাবিদ্রোহ’ দেখা দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করা থেকে শুরু করে একাধিক এলাকায় শাসক দলের নেতাদের পদত্যাগ, এবং দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগে একের পর এক নেতার গ্রেফতারিতে জেরবার ঘাসফুল শিবির। এই চরম ডামাডোলের আবহেই এবার বিধাননগরের মেয়রের কুর্সি ছাড়লেন কৃষ্ণা।
অভিযোগহীন কেরিয়ার ও আকস্মিক বিদায়
উল্লেখ্য, কৃষ্ণা চক্রবর্তী তৃণমূল নেত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বিধাননগর পুরনিগমের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। কখনো বরো চেয়ারম্যান, আবার কখনো মেয়রের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক শীর্ষ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে রাজ্য জুড়ে তীব্র জনরোষ আছড়ে পড়লেও, কৃষ্ণার ভাবমূর্তি ছিল সম্পূর্ণ উল্টো। দলমত নির্বিশেষে সকলের কথা শোনা, নম্র ব্যবহার এবং সল্টলেক-রাজারহাট এলাকার উন্নয়নের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল প্রশ্নাতীত। তা সত্ত্বেও কেন তিনি হঠাৎ পদ ছাড়লেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। যদিও কাগজে-কলমে তিনি ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখেই ইস্তফা দিয়েছেন।
‘কারও প্রতি অভিমান নেই’
বৃহস্পতিবার মেয়রের ঘর থেকে নিজের জিনিসপত্র গুটিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কৃষ্ণা চক্রবর্তী। আবেগঘন গলায় তিনি বলেন, “আমি পুরোপুরি ব্যক্তিগত কারণেই পদত্যাগ করেছি। এবার নিজের জন্য কিছুটা সময় দরকার। তবে মেয়র না থাকলেও কাউন্সিলর হিসেবে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে যাব। বিধাননগরের বাসিন্দাদের কাছ থেকে যে বিপুল ভালোবাসা ও সম্মান আমি পেয়েছি, তার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ।” দলের কোনো অভ্যন্তরীণ চাপ বা কারও প্রতি কোনো অভিমান রয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্পষ্ট জানান, “কারও প্রতি আমার কোনও ক্ষোভ বা অভিমান নেই।”
কৃষ্ণার এই বিদায় সাময়িকভাবে ব্যক্তিগত মনে হলেও, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিধাননগর পুরনিগম তৃণমূলের হাত থেকে ফসকে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে তা আরও ত্বরান্বিত করল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।



















