কলকাতা: বিধানসভার পর এবার খোদ দেশের সংসদ ভবনেও তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙনের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেল। রাজ্য বিধানসভার পরিষদীয় দলের পর এবার তৃণমূলের সংসদীয় দলেও ভাঙনের পর্ব আসন্ন। ১২ জন সাংসদের দল ভাঙার প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত হওয়ার পর এবার সেই তালিকা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে, দল ছাড়তে চলা এই সাংসদদের মধ্যে অন্তত ৩ থেকে ৪ জন তৃণমূল শীর্ষনেতৃত্বের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মহলের বলেই খবর পাওয়া যাচ্ছে। (trinamool congress mp may join bjp)
খুব শীঘ্রই দেশের সংসদে শুরু হতে চলেছে বাদল অধিবেশন। রাজনৈতিক মহলের খবর, এই অধিবেশন শুরু হওয়ার ঠিক আগে, সম্ভবত আগামী সপ্তাহেই তৃণমূলের সংসদীয় ঘরে আছড়ে পড়তে চলেছে এই রাজনৈতিক সুনামি। এর আগে রাজ্য বিধানসভায় তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যক বিধায়ক দল ভেঙে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁরা নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করে ইতিমধ্যেই প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদাও আদায় করে নিয়েছে।
ঠিক একই আইনি কৌশল মেনে এবার সংসদীয় দলেও ভাঙন ধরানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন। দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতা থেকে বাঁচতে গেলে দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ সংখ্যা নিয়ে একজোট হয়ে তৃণমূল ছাড়ার পথে হাঁটতে হবে। সেই হিসেবে প্রয়োজনীয় জাদুর সংখ্যাটি হল ১৮ বা ১৯। এই লক্ষ্যপূরণেই প্রথমে ১২ জন সাংসদের দল ভাঙা চূড়ান্ত হওয়ার পর, বর্তমানে আরও অন্তত ৬ জন সাংসদ তৃণমূল ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছেন। সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই গোটা পর্বটি পুরোপুরি চূড়ান্ত করে ফেলা হচ্ছে।
তবে কড়া সুরক্ষার স্বার্থে এখনই দলত্যাগী সাংসদদের প্রত্যেকের নাম সামনে আনতে চাইছে না তৈরি হওয়া এই নতুন ‘ব্লক’। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, শুধু লোকসভাতেই যে এই ‘অপারেশন লোটাস’ সীমাবদ্ধ থাকছে এমনটা নয়, আগামী দিনে রাজ্যসভাতেও এই একই ধরনের অপারেশন চালানো হবে বলে জোর খবর। সব মিলিয়ে, বিধানসভার পর এবার সংসদেও তৃণমূলের অস্তিত্ব এক বিরাট সংকটের মুখে পড়তে চলেছে।




















