ঋতব্রত শিবিরে বিধায়কদের ভিড়, পার হল ম্যাজিক ফিগার

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে জল্পনা ক্রমশ তুঙ্গে। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিক্ষোভ ও মতভেদের আবহের মধ্যেই নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে। দলত্যাগ বিরোধী আইনের জটিলতা এড়িয়ে বিধানসভায় নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ...

By Suparna Parui

Published:

Follow Us
Ritabrata Faction Claims Majority Mark, Political Stakes Rise

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে জল্পনা ক্রমশ তুঙ্গে। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিক্ষোভ ও মতভেদের আবহের মধ্যেই নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে। দলত্যাগ বিরোধী আইনের জটিলতা এড়িয়ে বিধানসভায় নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে যে সংখ্যার প্রয়োজন ছিল, তা নাকি ইতিমধ্যেই ছুঁয়ে ফেলেছেন নেতারা। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগার ৫৩ পেরিয়ে ইতিমধ্যেই ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন জোগাড় করতে সক্ষম হয়েছেন তাঁরা। (Ritabrata banerjee)

বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সংখ্যাটা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী কোনও রাজনৈতিক দলের বিধায়করা যদি আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে চান, তাহলে সংশ্লিষ্ট বিধায়ক দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হয়। সূত্রের দাবি অনুযায়ী, তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে অন্তত ৫৩ জনের সমর্থন থাকলেই সেই শর্ত পূরণ করা সম্ভব। আর সেই লক্ষ্য অতিক্রম করে বিদ্রোহী শিবির নাকি ৫৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছে। এই উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata banerjee) । রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নেপথ্যে থেকে একাধিক বৈঠক, যোগাযোগ ও সমর্থন সংগ্রহের কাজ চালিয়ে গিয়েছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে সমানতালে সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলাচ্ছেন এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা। দুই নেতার নেতৃত্বেই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির প্রচেষ্টা জোরদার হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

   

তবে সংখ্যার হিসেবে এগিয়ে থাকলেও বিদ্রোহী শিবিরের অন্দরে সবকিছু যে একেবারে নির্বিঘ্ন, তা নয়। বরং শেষ মুহূর্তে এসে অনেক বিধায়কের মধ্যেই প্রবল মানসিক দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাজ করছে বলে খবর। দীর্ঘদিনের তৃণমূল নেতাদের একাংশ এখনও নতুন নেতৃত্বকে পুরোপুরি মেনে নিতে পারছেন না। বিশেষ করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতীত রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠছে দলের পুরনো কর্মী-নেতাদের মধ্যে। একসময় সিপিএমের ছাত্র ও যুব রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা ঋতব্রতকে (Ritabrata banerjee) তৃণমূলের পুরনো প্রজন্মের অনেকেই এখনও ‘বহিরাগত’ হিসেবেই দেখেন। ফলে তাঁর নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করার বিষয়ে সংশয় কাটছে না অনেকের।

তৃণমূলের (Ritabrata banerjee) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দলের সঙ্গে থাকা কয়েকজন অভিজ্ঞ বিধায়ক ও নেতা ব্যক্তিগতভাবে এই পরিস্থিতি নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছেন বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লড়াই, সংগঠন গড়ে তোলা এবং দলের প্রতি আনুগত্যের ইতিহাসকে এক ধাক্কায় বদলে ফেলা সহজ নয়। ফলে আবেগ ও বাস্তব রাজনীতির মধ্যে এক ধরনের সংঘাত তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, অনেকের মধ্যেই আবার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ কাজ করছে। যদি বর্তমানে তৈরি হওয়া এই নতুন রাজনৈতিক স্রোতে নিজেদের যুক্ত না করা যায়, তাহলে আগামী দিনে রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে একদিকে আনুগত্যের প্রশ্ন, অন্যদিকে রাজনৈতিক ভবিষ্যতের হিসাব এই দুইয়ের টানাপোড়েনেই রয়েছেন বহু বিধায়ক।

এই পরিস্থিতিতেই আজ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছেন বিক্ষুব্ধ শিবিরের নেতারা। বৈঠকে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা, সাংগঠনিক কাঠামো এবং বিধানসভায় পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। পাশাপাশি, স্বাক্ষর সংগ্রহের প্রক্রিয়া ও আইনি অবস্থান নিয়েও বিস্তারিত পর্যালোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি সত্যিই ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন বিদ্রোহী শিবিরের হাতে থাকে, তাহলে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত কতজন বিধায়ক প্রকাশ্যে অবস্থান নেন এবং বিধানসভার মঞ্চে কী ছবি সামনে আসে, সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সেই উত্তর মিলতে পারে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই।

Suparna Parui

হাতেখড়ি চ্যানেলে। খবরের গন্ধ শনাক্ত করার কৌশল শেখা সেখান থেকেই। তারপর ৬ বছর ধরে বিনোদন রাজনীতির খবরের ব্যবচ্ছেদ করে চলেছি। খবর শুধু পেশা নয়, একমাত্র নেশাও বটে।কাজের পাশাপাশি সিনেমা দেখতে, গান শুনতে, বেড়াতে যেতে খুব ভালোলাগে। তাই সময় সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ি নতুন অ্যাডভেঞ্চারের উদ্দেশ্যে।

Follow on Google