বিধায়কদের সই জালিয়াতি মামলায় রাজনৈতিক চাপানউতোরের আবহে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) । সিআইডি-র পাঠানো নোটিসকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। শুধু নোটিস খারিজের আবেদনই নয়, তদন্তকারী সংস্থা যাতে তাঁকে গ্রেফতার করতে না পারে, সেই মর্মে রক্ষাকবচের আবেদনও জানিয়েছেন তিনি। বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায় মামলাটি দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন। আগামী শুক্রবার মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিধায়কদের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ ঘিরে গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এই মামলার তদন্তভার হাতে নিয়েছে সিআইডি। তদন্তের অগ্রগতির স্বার্থে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে(Abhishek Banerjee) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিস পাঠানো হয়েছিল। সেই নোটিস অনুযায়ী গত ১ জুন তাঁকে ভবানীভবনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত দিনে সিআইডি-র সামনে হাজির হননি অভিষেক। পরিবর্তে তদন্তকারী সংস্থার কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে তিনি জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁর পক্ষে উপস্থিত হওয়া সম্ভব নয়। এরপরই ঘটনাপ্রবাহ নতুন মোড় নেয়। সেদিন বিকেলেই সিআইডি-র একটি দল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে পৌঁছে যায়। যদিও আধিকারিকদের বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর বাড়ির এক প্রতিনিধি বাইরে এসে সিআইডি-র দেওয়া নোটিস গ্রহণ করেন।
সূত্রের খবর, ওই নোটিসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) আগামী ৮ জুন ভবানীভবনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নোটিসকেই এবার আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতা। তাঁর আইনজীবীদের দাবি, তদন্তের নামে অযথা চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অন্যদিকে, তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, মামলার স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্যই তাঁকে ডাকা হয়েছে। এই আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিস্থিতিও ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে একাধিক বিষয়ে মতবিরোধের ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে। দলের প্রাক্তন সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে ‘নতুন তৃণমূল’ গঠনের উদ্যোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। দাবি করা হচ্ছে, তাঁরা বিধানসভার প্রায় ৬০ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র বা স্বাক্ষর সংগ্রহ করে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছেন।
এখন সকলের নজর কলকাতা হাইকোর্টের দিকে। শুক্রবার মামলার শুনানিতে আদালত কী অবস্থান নেয়, সেটাই নির্ধারণ করতে পারে তদন্তের ভবিষ্যৎ গতিপথ। আদালত যদি সিআইডি-র নোটিস বহাল রাখে, তাহলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তদন্তে সহযোগিতা করতে হতে পারে। অন্যদিকে, আদালত যদি তাঁর আবেদনে সাড়া দেয়, তাহলে তদন্ত প্রক্রিয়ায় সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে।



















