নিজের দলের বিধায়কদের সই জাল করার অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী (suvendu adhikari) । তাঁর দাবি, দলের অভ্যন্তরেই প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত গুরুতর। বিধানসভা সংক্রান্ত একটি সই জালিয়াতি কাণ্ডকে কেন্দ্র করে এই মন্তব্য করেন তিনি, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, নিজের দলের বিধায়কদের সই জাল করে তাদেরই প্রতারণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “নিজেদের দলের লোকেদের সঙ্গেই প্রতারণা করেছে ওরা।” এই ঘটনায় দলের অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে। সূত্রের খবর, এই সই জালিয়াতির অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দুই বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই মামলা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, তাঁদের অনুমতি ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ নথিতে তাঁদের সই ব্যবহার করা হয়েছে।
এছাড়াও আরও তিনজন বিধায়ক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সংশ্লিষ্ট নথিতে থাকা সই তাঁদের নয়। এই বক্তব্যের পরেই তদন্তের গতি বাড়ে এবং বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে গুরুত্ব পায়। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর। মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনায় দলের অবস্থান স্পষ্ট করে জানান, কোনও ধরনের জালিয়াতি বা অনিয়মকে বরদাস্ত করা হবে না। তিনি আরও বলেন, যদি দলের ভেতরেই কেউ এই ধরনের কাজ করে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, আইন সবার জন্য সমান।
এই ঘটনায় প্রশাসনিক স্তরেও তৎপরতা দেখা গিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট নথি ও স্বাক্ষর যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের সাহায্যে সই যাচাই করার প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে বলে সূত্রের দাবি। তদন্তকারীরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন এবং একাধিক নথি সংগ্রহ করা হচ্ছে।
তবে তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের বক্তব্য, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং তদন্তের মাধ্যমে সত্য প্রকাশ পাবে। দলীয় নেতৃত্বের মতে, কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দল কোনওভাবেই এই ধরনের অনিয়মকে সমর্থন করে না বলেও দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সই জালিয়াতির অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং এটি প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। তাই তদন্তের ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। পুলিশের পাশাপাশি প্রশাসনিক স্তরেও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।




















