পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের একবার ইডি দপ্তরে হাজিরা দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ (Rathin Ghosh) । সোমবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ তিনি সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দপ্তরে পৌঁছন। এটি এই মামলায় তাঁর দ্বিতীয়বার ইডির সামনে হাজিরা। তদন্তকারী আধিকারিকদের ডাকে সাড়া দিয়েই তিনি এদিন হাজির হন বলে জানা গিয়েছে।
ইডি দপ্তরে প্রবেশের সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রথীন ঘোষ (Rathin Ghosh) বলেন, “ডেকেছে, তাই এসেছি। যে নথিগুলো চেয়েছিল, সেগুলো নিয়ে এসেছি। আয়কর সংক্রান্ত কিছু নথি চেয়েছিল।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। সূত্রের খবর, পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আর্থিক লেনদেন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র খতিয়ে দেখতেই প্রাক্তন মন্ত্রীকে ফের ডেকে পাঠানো হয়। তদন্তকারীরা আগেই কিছু নির্দিষ্ট নথি চেয়েছিলেন, যা যাচাই করার জন্যই এদিনের হাজিরা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ইডি আধিকারিকরা বিভিন্ন দিক থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তদন্তকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, রবিবার কালীঘাটে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ডাক দিয়েছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের বিভিন্ন বিধায়ককে সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। (Rathin Ghosh) কিন্তু সূত্রের দাবি, ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে মাত্র ২০ জন উপস্থিত ছিলেন। ফলে নির্ধারিত সেই বৈঠক বাতিল করে দেন তৃণমূলনেত্রী। এই অনুপস্থিত বিধায়কদের তালিকায় নাম ছিল রথীন ঘোষেরও। ফলে এদিন ইডি দপ্তরে হাজিরার সময় সাংবাদিকরা তাঁকে কালীঘাটের বৈঠকে অনুপস্থিত থাকা নিয়েও প্রশ্ন করেন। জবাবে প্রাক্তন মন্ত্রী জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণেই তিনি ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তাঁর কথায়, “আমার তো শরীর খারাপ। তাই যেতে পারিনি।”
তবে দলীয় পরিস্থিতি নিয়ে তিনি কোনও উদ্বেগের কথা স্বীকার করেননি। বরং রথীন ঘোষ (Rathin Ghosh) দাবি করেন, দলের সার্বিক পরিস্থিতি ঠিকই রয়েছে। তাঁর বক্তব্যে বোঝা গিয়েছে, অভ্যন্তরীণ আলোচনা বা বৈঠকে অনুপস্থিতি সত্ত্বেও সংগঠনের ভিত মজবুত রয়েছে বলেই তিনি মনে করছেন। তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, রথীন ঘোষের জমা দেওয়া নথি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনে তাঁকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে। আর্থিক লেনদেন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্তের পরিধি বিস্তৃত হয়েছে বলে খবর।
এখন নজর তদন্তের পরবর্তী ধাপের দিকে। ইডি কী তথ্য সামনে আনে এবং রথীন ঘোষকে ভবিষ্যতে আবারও তলব করা হয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল। একইসঙ্গে দলীয় বৈঠকে অনুপস্থিতির বিষয়টি ভবিষ্যতে কোনও রাজনৈতিক প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়েও চলছে জল্পনা।




















