জলপাইগুড়ি: পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি শহরে একটি নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। (Jalpaiguri)অভিযোগ উঠেছে যে, মহম্মদ ইউনুস নামে এক ব্যক্তি তাঁর খাবারের দোকান চালাচ্ছিলেন ‘রাহুলস বাটার নান’ নামে যা একটি স্পষ্ট হিন্দু নাম। দোকানটি শহরের এলআইসি অফিসের ঠিক সামনে । স্থানীয় বজরং দলের কর্মীরা দোকানে গিয়ে ইউনুসকে অনুরোধ করেছেন যে, তিনি তাঁর নিজের প্রকৃত নাম ব্যবহার করে দোকান চালান।
ঘটনাটি স্থানীয় মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে বলছেন, ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে ব্যবসা করা প্রতারণার শামিল। অন্যদিকে কেউ কেউ এটাকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয় বলে মনে করছেন। বজরং দলের কর্মীরা জানিয়েছেন, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে দোকানে গিয়েছিলেন এবং মুহাম্মদ ইউনুসকে বলেছেন যে, গ্রাহকদের কাছে সঠিক পরিচয় প্রকাশ করা উচিত। তাঁরা আরও বলেন, হিন্দু নাম ব্যবহার করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা বা গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করা ঠিক নয়।
আরও দেখুনঃ দেশের নতুন সিডিএস হলেন জেনারেল এন এস রাজা সুব্রামানি
মুহাম্মদ ইউনুসের দোকানটি বেশ কিছুদিন ধরে চলছিল। ‘রাহুলস বাটার নান’ নামের বোর্ড ঝুলিয়ে তিনি নান, পরোটা, চিকেন-মাটনের বিভিন্ন খাবার বিক্রি করতেন। স্থানীয়রা জানান, দোকানের খাবারের স্বাদ ভাল হওয়ায় অনেকেই সেখানে যেতেন। কিন্তু যখন দোকান মালিকের আসল পরিচয় প্রকাশ পায়, তখন অনেকের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
এই ঘটনা জলপাইগুড়ি জেলায় ধর্মীয় সহাবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় এ ধরনের অভিযোগ আগেও উঠেছে। কেউ কেউ বলছেন, প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কিছু ব্যবসায়ী গ্রাহক টানার জন্য এমন কৌশল অবলম্বন করেন। আবার অনেকে মনে করেন, এটা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং কোনো সমস্যা নেই।
তবে যখন বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে, তখন সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।স্থানীয় প্রশাসন এখনও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় এখনও কোনো মামলা হয়নি। তবে সামাজিক উত্তেজনা যাতে না ছড়ায় সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। জলপাইগুড়ির বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, এ ধরনের প্রতারণামূলক ব্যবসা বন্ধ করতে হবে।




















