কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবার প্রকাশ্যে (Shovandeb Chattopadhyay)। দলের পক্ষ থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার জন্য প্রায় ৮০ জন বিধায়কের স্বাক্ষর সম্বলিত প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই তালিকায় নাম থাকা মুর্শিদাবাদের তৃণমূল বিধায়ক বাহারুল ইসলাম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কোনো প্রস্তাবে সই করেননি।
তাঁর অভিযোগ তাঁর সই জাল করা হয়েছে। বাহারুল ইসলাম বলেন, “আমি কোনো এমন প্রস্তাবে স্বাক্ষর করিনি। আমার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এটা খুবই গুরুতর বিষয়।” তাঁর এই অভিযোগের পরই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবার প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
আরও দেখুনঃ রহস্য সমাধান হবে মঙ্গল গ্রহের গুহার, অনুসন্ধান চালাবে রোবট, উড়বে ড্রোন
অভিযোগ উঠতেই সিআইডি তদন্তে নেমেছে। বাহারুল ইসলামের বাসভবনে ইতিমধ্যে সিআইডি আধিকারিকরা পৌঁছেছেন। সঙ্গে রয়েছেন হ্যান্ডরাইটিং এক্সপার্ট। স্বাক্ষরগুলো আসল না জাল তা যাচাই করতে বিধায়কের দেওয়া নথিপত্রের সঙ্গে তুলনামূলক পরীক্ষা চলছে। বাহারুল ইসলাম নিজেও সিআইডিকে সহযোগিতা করছেন বলে জানা গেছে।
তৃণমূল সূত্রে দাবি করা হয়েছিল যে, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা পদের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্বাক্ষর সংগ্রহ হয়েছে এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কেই এই দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব জমা পড়েছে। কিন্তু একজন বিধায়কের প্রকাশ্য অস্বীকৃতি এবং জালিয়াতির অভিযোগ পুরো প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে যদি একজনের সই জাল হয়ে থাকে, তাহলে আরও কতজনের সই নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে?
বাহারুল ইসলামের এই অভিযোগের পর তৃণমূলের অন্দরে চাঞ্চল্য বেড়েছে। দলের একাংশ চাইছে বিষয়টি দ্রুত মিটিয়ে ফেলতে, অন্য অংশ অবশ্য এটাকে অভ্যন্তরীণ বিরোধের ফল বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে সিআইডির তদন্ত শুরু হওয়ায় এখন আর শুধু দলীয় ব্যাপার নয়, এটা আইনি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা পদটি তৃণমূলের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে আসন সংখ্যা কমে যাওয়ার পর দলের সংগঠনকে চাঙ্গা করতে এবং সরকারের বিরুদ্ধে কার্যকর বিরোধিতা গড়ে তুলতে এই পদের ভূমিকা অনেক। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম এই পদের জন্য ঘোষণা করার পর থেকেই দলের মধ্যে নানা মতামত শোনা যাচ্ছিল। বাহারুল ইসলামের অভিযোগ সেই আলোচনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।




















