মঙ্গল গ্রহে (Mars) এমন অনেক রহস্য রয়েছে যা উন্মোচন করতে সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীরা আগ্রহী। এখন, বিজ্ঞানীরা গ্রহটির মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা রহস্যময় লাভা নলগুলো অন্বেষণ করার জন্য একটি বিশেষ রোবট তৈরি করছেন। বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে মঙ্গল গ্রহের নিচে প্রায় ৭৪৬ মাইল দীর্ঘ একটি বিশাল সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক রয়েছে। ধারণা করা হয়, লক্ষ লক্ষ বছর আগে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে এটি গঠিত হয়েছিল।
মঙ্গল গ্রহ নিয়ে গবেষণা করা বিজ্ঞানীরা বলছেন যে, এই ভূগর্ভস্থ গুহাগুলো মঙ্গল গ্রহে বিদ্যমান বিপজ্জনক তেজস্ক্রিয়তা থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। এছাড়াও, এই গুহাগুলোতে ক্ষুদ্র প্রাণের অস্তিত্বের লক্ষণ দেখা গেছে। যদি সত্যিই এমনটা হয়, তবে আগামী বছরগুলোতে এই গ্রহে মানুষের বসবাসের জন্য এটি একটি নিরাপদ স্থান হতে পারে। আগেকার দিনে এই ছোট গুহাগুলোতে পৌঁছানো খুব কঠিন বলে মনে করা হতো, কিন্তু এখন কিছু নতুন প্রযুক্তি অনেক আশা জাগিয়েছে।
নতুন ও অনন্য প্রযুক্তি সম্পর্কে জানুন
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো টেকের বিজ্ঞানী মুস্তাফা হাসানালিয়ান সম্পূর্ণরূপে প্রকৃতি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি অনন্য রোবোটিক সিস্টেম নিয়ে কাজ করছেন। রোলি-পলি রোবট নামক এই সিস্টেমের প্রথম উপাদানটি দুটি পিলবাগ দিয়ে গঠিত এবং এটিকে একটি ছোট পোকামাকড়ের আদলে তৈরি করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই বিশেষ রোবটটি দেখতে গোলাকার এবং এটি মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠে থাকা ছোট-বড় উভয় ধরনের লাভা নলের ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম। এই বড় গর্তগুলোকে স্কাইলাইট বলা হয়।
এই প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে?
প্রতিবেদন অনুসারে, এই বিশাল গর্তগুলিতে পৌঁছানোর পর হাজার হাজার ছোট ড্যান্ডেলিয়ন ড্রোন ছাড়া হয়েছিল। ধারণা করা হয়, এগুলো খুব ছোট ড্রোন, যা মঙ্গলগ্রহের সুড়ঙ্গের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রবল বাতাস ব্যবহার করে কয়েক মাইল পর্যন্ত উড়তে সক্ষম। এই ড্রোনগুলো পথের মানচিত্রও তৈরি করতে পারে।
সুড়ঙ্গগুলোর মানচিত্র তৈরির প্রস্তুতি
বিজ্ঞানীরা তাপের অপচয় কমাতে এবং ড্রোনগুলোকে হালকা রাখতে একটি স্বতন্ত্র সাদা রঙে ডিজাইন করেছেন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ড্রোনগুলো এক বিশেষ ধরনের পিজোইলেকট্রিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে, যা শক্তি উৎপাদনের জন্য নরম ও নমনীয় পলিমার ব্যবহার করে।
ড্রোনগুলোর কাজ হলো মঙ্গলগ্রহের লাভা সুড়ঙ্গগুলোতে প্রবেশ করে সেগুলোর গঠন, তাপমাত্রা এবং প্রাণের অস্তিত্বের চিহ্ন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা। কিউরিওসিটি ও পারসিভারেন্সের মতো রোভারগুলো বর্তমানে মঙ্গলগ্রহে কাজ করছে, কিন্তু এত সংকীর্ণ সুড়ঙ্গে চলাচল করার জন্য সেগুলো বড্ড বেশি ভারী। এই কারণেই বিজ্ঞানীরা আরও ছোট রোবট তৈরির চেষ্টা করছেন।




















