প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার নাম করে কাটমানি! দুরাজপুরে তৃণমূল নেতাকে জুতোপেটা

বীরভূম: বীরভূমের দুবরাজপুরে ছড়াল চাঞ্চল্য। ক্ষোভের মুখে তৃণমূল কাউন্সিলারের ঘনিষ্ঠ ধনঞ্জয় গড়াই (Dubrajpur)। এলাকার লোকেরা তাকে অর্ধনগ্ন করে চটিপেটা করেছে বলে জানা গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
dubrajpur-pm-awas-yojana-cut-money-protest-birbhum-tmc-councillor

বীরভূম: বীরভূমের দুবরাজপুরে ছড়াল চাঞ্চল্য। ক্ষোভের মুখে তৃণমূল কাউন্সিলারের ঘনিষ্ঠ ধনঞ্জয় গড়াই (Dubrajpur)। এলাকার লোকেরা তাকে অর্ধনগ্ন করে চটিপেটা করেছে বলে জানা গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। অভিযোগের তির দুবরাজপুর পুরসভার এক তৃণমূল কাউন্সিলর ভাস্কর রুজ এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আবাস যোজনার ফাইল পাস করিয়ে দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগ সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার মানুষ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিস্থিতি চরমে ওঠে। বিক্ষুব্ধ মানুষজন কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে কাউন্সিলর ভাস্কর রুজের বাড়ির সামনে জড়ো হন। মুহূর্তের মধ্যে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, পরিস্থিতি বেগতিক বুঝতে পেরে কাউন্সিলর বাড়ির ভিতরে ঢুকে আত্মগোপন করেন। তাঁকে বাইরে না পেয়ে ক্ষুব্ধ জনতা আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে।

   

আরও দেখুনঃ আমেরিকানরা চাঁদে বাস করবে! ২০৩০ সাল পর্যন্ত নাসার পরিকল্পনা কী?

এরপর জনতার রোষ গিয়ে পড়ে কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী তথা স্থানীয় তৃণমূল নেতা ধনঞ্জয় গড়াই ওরফে ধনু মাস্টারের উপর। অভিযোগ, তিনিও কাটমানি তোলার ঘটনায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে ধরে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং একসময় ধনু মাস্টারকে জুতোপেটা ও গণপিটুনি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই আবাস যোজনার সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বহু উপভোক্তার কাছ থেকে টাকা তোলা হচ্ছিল। অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের টাকা দ্রুত পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিক পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের কাটমানি আদায় করা হয়। কিন্তু টাকা নেওয়ার পরেও অনেকেই এখনও পর্যন্ত ঘর পাননি বলে দাবি করেছেন। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, গরিব মানুষের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের আবাস যোজনার টাকা নিয়ে দুর্নীতি করা অত্যন্ত লজ্জাজনক। বহু মানুষ নিজেদের শেষ সম্বল বিক্রি করে বা ধার করে কাটমানির টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি মতো সুবিধা না মেলায় তাঁরা প্রতারিত হয়েছেন বলে দাবি করেন। ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা অবিলম্বে তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন।

ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পুলিশ পৌঁছয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে এবং উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার উদ্যোগ নেয়। যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে কিনা, তা স্পষ্ট নয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সরকারি ভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিরোধীরা ইতিমধ্যেই এই ইস্যুতে তৃণমূলকে আক্রমণ করতে শুরু করেছে। তাঁদের দাবি, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি প্রকল্পেও দুর্নীতি ও কাটমানির সংস্কৃতি বন্ধ হয়নি। যদিও তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google