মুল্লানপুরের মাঠে যেন একাই ঝড় তুললেন বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Suryavanshi)। তাঁর বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সামনে কার্যত অসহায় দেখাল সানরাইজ়ার্স হায়দরাবাদকে। এলিমিনেটরের মতো বড় ম্যাচে মাত্র ২৯ বলে ৯৭ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলে রাজস্থানকে বিশাল রানের ভিত গড়ে দেন তরুণ এই ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ৪৮ রানে জিতে কোয়ালিফায়ারের পথে বড় পদক্ষেপ নিল রাজস্থান।
আরও পড়ুন: বাংলার কোচ ফের লক্ষ্মীরতন, সফলতা সত্ত্বেও ব্রাত্য সৌরাশিস লাহিড়ী
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন বৈভব। হায়দরাবাদের অধিনায়ক প্যাট কামিন্স তাঁকে আটকাতে একের পর এক পরিকল্পনা করেন। প্রথমে ইয়র্কার এবং অফ স্টাম্প লক্ষ্য করে লেংথ বল করা হয়। কিন্তু বৈভব সামনের পা সরিয়ে অনায়াসে বড় শট মারতে থাকেন। এরপর শর্ট বল এবং বাউন্সারের ফাঁদ পাতেন কামিন্সেরা। সাকিব হুসেন, প্রফুল্ল হিঙ্গে ও ঈশান মালিঙ্গারা দ্রুত গতির বল করে তাঁকে চাপে ফেলতে চাইলেও কোনও লাভ হয়নি। বরং পুল শটে স্কোয়ার লেগ ও মিড উইকেট অঞ্চলে একের পর এক ছক্কা হাঁকান তিনি। শেষে গতি কমিয়ে কাটার বল করা শুরু হলেও তাতেও থামানো যায়নি বৈভবকে।
আরও পড়ুন: ইউনিটি কাপের অভিযান শুরু করার আগে কী বললেন খালিদ?
এই ইনিংসে একাধিক ছক্কা মেরে তিনি ক্রিস গেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডও ভেঙে দেন। প্রথম চার ওভারের মধ্যেই কামিন্স, মালিঙ্গা ও সাকিবদের বিরুদ্ধে একের পর এক ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচের রাশ পুরোপুরি নিজের হাতে নিয়ে নেন তিনি। অপর প্রান্তে যশস্বী জয়সওয়াল ধীরে খেললেও ধ্রুব জুরেল দ্রুত রান তুলে চাপ বাড়ান। মাত্র ২০ বলে অর্ধশতরান করেন জুরেল। অধিনায়ক রিয়ান পরাগও ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংস খেলেন। তবে শেষ দিকে পরপর উইকেট পড়ায় রাজস্থানের রান তোলার গতি কিছুটা কমে যায়। এক সময় মনে হচ্ছিল দল ২৬০ রানের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ২৪৩ রানেই থামে তারা।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ঝুঁকি নিতে বাধ্য হয় হায়দরাবাদ। ঈশান ঝড়ো ব্যাটিং করে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন। জোফ্রা আর্চারের বিরুদ্ধেও নির্ভীকভাবে শট খেলেন তিনি। কিন্তু ১১ বলে ৩৩ রান করে আর্চারের বলেই আউট হন। ট্রেভিস হেডও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। আর্চারের গতির সামনে ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়তে থাকে। মাত্র সাত ওভারের মধ্যেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় হায়দরাবাদ।
আরও পড়ুন: লাল-হলুদকে ভারত সেরা করে নেটমাধ্যমে কী লিখলেন রশিদ?
পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন নীতীশ কুমার রেড্ডি ও সলিল অরোরা। দু’জনে কিছুটা লড়াই গড়ে তুললেও প্রয়োজনীয় রানরেট এতটাই বেশি ছিল যে চাপ সামলানো কঠিন হয়ে যায়। নীতীশ ৩৮ রান করে আউট হওয়ার পর হায়দরাবাদের আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়। অধিনায়ক কামিন্সও ব্যর্থ হন। শেষ দিকে সলিল কিছু বড় শট খেললেও দলকে জেতানোর জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত ১৯.২ ওভারে ১৯৬ রানে অল আউট হয়ে যায় হায়দরাবাদ।
এই জয়ে সবচেয়ে বড় নায়ক নিঃসন্দেহে বৈভব সূর্যবংশী। তাঁর ব্যাট থেকেই এলিমিনেটরের মঞ্চে এমন এক ইনিংস দেখা গেল, যা দীর্ঘদিন মনে রাখবেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।




















