কলকাতা: আগামী মরশুমে বাংলা ক্রিকেট (Bengal Cricket) দলের কোচিং স্টাফ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই জোর জল্পনা চলছিল। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল বা সিএবি প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে সিনিয়র ও বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের কোচদের তালিকা। নতুন তালিকায় যেমন কিছু পরিচিত মুখ জায়গা পেয়েছেন, তেমনই কয়েকটি সিদ্ধান্ত ঘিরে তৈরি হয়েছে বিস্ময়ও। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্থাৎ বাংলার সিনিয়র দলের হেড কোচের পদে ফের আস্থা রাখা হয়েছে লক্ষ্মীরতন শুক্লার উপর।
এর আগেও একাধিক মরশুম বাংলার দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। তাঁর কোচিংয়ে বাংলা রঞ্জি ট্রফিতে দু’বার সেমিফাইনাল এবং একবার ফাইনালে উঠেছিল। সেই অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই আবারও তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সিএবির একাংশের মতে, দলের পরিবেশ ও ক্রিকেটারদের মানসিকতা সম্পর্কে লক্ষ্মীরতনের পরিষ্কার ধারণা রয়েছে, যা বাংলার জন্য ইতিবাচক হতে পারে।
আরও পড়ুন: ইউনিটি কাপের অভিযান শুরু করার আগে কী বললেন খালিদ?
লক্ষ্মীরতনের সঙ্গে কোচিং স্টাফে যোগ দিচ্ছেন মুম্বইয়ের অভিজ্ঞ কোচ সুরেন্দ্র ভাবে। তিনি সহকারী কোচের পাশাপাশি ব্যাটিং কোচের ভূমিকাও পালন করবেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। বিশেষ করে তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ করার দক্ষতার জন্য তিনি পরিচিত। ফলে বাংলার ব্যাটিং বিভাগকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই তাঁকে আনা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে সবচেয়ে বেশি চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে সৌরাশিস লাহিড়ীর নাম বাদ পড়া। গত কয়েক বছরে বাংলা ক্রিকেটে সফল কোচদের তালিকায় তাঁর নাম প্রথম সারিতেই ছিল। অনূর্ধ্ব তেইশ দলের দায়িত্বে থাকাকালীন বাংলা ফাইনালে উঠেছিল এবং চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল। পরে অনূর্ধ্ব উনিশ দলের দায়িত্ব সামলেও তিনি সফল হন। শুধু তাই নয়, জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতেও নিয়মিত কোচিংয়ের ডাক পেয়েছেন তিনি। তাই এমন একজন কোচকে কোনও দায়িত্ব না দেওয়ায় অনেকেই অবাক। সিএবি সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচ নির্বাচন করার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং সেই কমিটির সদস্যদের নাকি সৌরাশিসের প্রেজেন্টেশন পছন্দ হয়নি। সেই কারণেই তাঁকে বাদ রাখা হয়েছে বলে দাবি।
আরও পড়ুন: লাল-হলুদকে ভারত সেরা করে নেটমাধ্যমে কী লিখলেন রশিদ?
এবারের কোচিং কাঠামোয় নতুন চমক হিসাবে দেখা যাচ্ছে মনোজ তিওয়ারির নাম। দীর্ঘ ক্রিকেটজীবনের পর তিনি কোচিংয়ে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। সেই সুযোগই এবার পাচ্ছেন তিনি। বাংলার অনূর্ধ্ব উনিশ দলের হেড কোচের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে মনোজকে। তরুণ ক্রিকেটারদের মানসিকতা বোঝার ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা দলের কাজে লাগবে বলেই আশা সিএবির।
আর এক প্রাক্তন বাংলা তারকা অনুষ্টুপ মজুমদারও এবার কোচিংয়ে হাতেখড়ি করতে চলেছেন। গত কয়েক বছরে কঠিন পরিস্থিতিতে বাংলা দলের অন্যতম ভরসা ছিলেন তিনি। ক্রিকেট থেকে অবসরের ইঙ্গিত আগেই মিলেছিল। এবার তাঁকে কোচিং স্টাফে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিএবি।
অনূর্ধ্ব তেইশ দলের দায়িত্বে থাকছেন ঋদ্ধিমান সাহা। গত মরশুমেও তিনি একই ভূমিকায় ছিলেন। তবে তাঁর সহকারী কোচ বদল হচ্ছে। প্রাক্তন পেসার সাবির আলিকে এবার ঋদ্ধিমানের সহকারী হিসাবে দেখা যাবে।
এখনও পর্যন্ত একমাত্র সিনিয়র দলের বোলিং কোচের নাম চূড়ান্ত হয়নি। তবে অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন পেসার শন টেটের নাম জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ রয়েছেন। জানা গিয়েছে, আগামী বছরের বিশ্বকাপ পর্যন্ত সেই চুক্তি কার্যকর। ফলে তাঁকে বাংলার দায়িত্বে আনা সহজ হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যদিও সিএবি আশাবাদী, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।




















