
কল্যাণী: বাংলার মা-বোনেদের জন্য বিরাট সুখবর। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ হওয়া নিয়ে বিরোধীদের সমস্ত কুৎসা ও জল্পনায় জল ঢেলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার কল্যাণীর প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, “যতদিন পর্যন্ত অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পুরোপুরি চালু না হচ্ছে, ততদিন রাজ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প যেভাবে চলছিল, ঠিক সেভাবেই চলবে। উপভোক্তারা নিয়মিত টাকা পাবেন।” একই সঙ্গে তিনি জানান, বুধবার থেকেই রাজ্যে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার রূপায়ণের অফিশিয়াল প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাচ্ছে। আগামীকাল নবান্ন থেকে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী এই প্রকল্পের ফর্ম রিলিজ করবেন। (Shuvendu Adhikari says Lakshmir Bhandar will continue in Bengal)
বুধবারই ফর্ম প্রকাশ, নবান্নে থাকবেন শুভেন্দু-অগ্নিমিত্রা
মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামীকাল (বুধবার) বিকেলে নবান্নে মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবের উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে সঙ্গে নিয়ে তিনি নিজেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের অফিশিয়াল ফর্ম প্রকাশ করবেন। কাল থেকেই এই প্রকল্পের মূল প্রক্রিয়া রাজ্যজুড়ে শুরু হয়ে যাচ্ছে।
অনলাইন ও অফলাইনে ফর্ম, উপভোক্তারা কীভাবে আবেদন করবেন?
সাধারণ মা-বোনেদের ফর্ম পূরণ নিয়ে যাতে কোনও হয়রানির শিকার হতে না হয়, তার জন্য একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, বুধবার থেকেই অনলাইন পোর্টাল এবং নির্দিষ্ট সরকারি দফতরে অফলাইনে এই ফর্মের কপি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যাবে। ফর্ম পূরণের পুরো বিষয়টি আমজনতার ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে না। প্রতিটি ব্লকের বিডিও (BDO)-দের নেতৃত্বে বিশেষ সরকারি টিম তৈরি করা হচ্ছে, যারা সরাসরি উপভোক্তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণে সহযোগিতা করবে। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়কদের ক্যাম্প করে উপভোক্তাদের পাশে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, নাম নথিভুক্তকরণ বা এনরোলমেন্ট যত দ্রুত সম্পন্ন হবে, উপভোক্তারা তত তাড়াতাড়ি সুবিধা পাবেন। ফর্ম জমা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৩,০০০ টাকা ট্রান্সফার হওয়া শুরু হবে।
অনুপ্রবেশকারীদের নো-এন্ট্রি, কড়া বার্তা শুভেন্দুর
কল্যাণীর বৈঠক থেকে এদিন সবচেয়ে বড় নীতিগত এবং রাজনৈতিক বার্তাটি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “মাথায় রাখবেন, কেবল মাত্র ভারতীয় নাগরিকরাই এই সুযোগ পাবেন। ভারতের টাকা বাংলাদেশ থেকে আসা কোনও অনুপ্রবেশকারীর জন্য নয়।” নবান্ন সূত্রের খবর, ভোটার তালিকা ধরে কড়া স্ক্রুটিনির পরেই এই টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। একদিকে ৩,০০০ টাকার বিপুল আর্থিক সাহায্য আর অন্যদিকে অনুপ্রবেশকারীদের ছেঁটে ফেলার এই জোড়া রণকৌশল আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি করবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।













