
ফের ইডির (ED RAID) তৎপরতায় সরগরম মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দি শহর। মঙ্গলবার সকালে কান্দির জেমোর বিশ্বাসপাড়ায় অবস্থিত পুলিশ কর্তা শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের প্রাসাদোপম বাড়িতে হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। তদন্তকারী সংস্থার এই অভিযানে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বাড়ির চারপাশ ঘিরে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই চলছে তল্লাশি অভিযান।
সূত্রের খবর, সকাল থেকেই একাধিক গাড়িতে করে ইডির (ED RAID) আধিকারিকরা শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বাড়িতে পৌঁছন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও। বাড়ির মূল ফটক থেকে শুরু করে আশপাশের এলাকা নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়। কোনও বহিরাগতকে বাড়ির কাছে যেতে দেওয়া হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এ দিন ব্যাপক কৌতূহল এবং উৎকণ্ঠা দেখা যায়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এর আগেও গত শুক্রবার একই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি(ED RAID) । সেই অভিযানের কয়েক দিনের মধ্যেই ফের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার উপস্থিতি ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, আগের তল্লাশিতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সূত্র মিলেছে বলেই আবারও এই অভিযান চালানো হচ্ছে। যদিও ইডির তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও পর্যন্ত কোনও বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
শান্তনু সিনহা বিশ্বাস বর্তমানে ইডির(ED RAID) হেফাজতে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। তদন্তকারীদের দাবি, একাধিক আর্থিক লেনদেন এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই সূত্র ধরেই কান্দির বাড়িতে ফের তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে বলে অনুমান।
এ দিন বাড়ির ভেতরে দীর্ঘক্ষণ ধরে নথিপত্র খতিয়ে দেখেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, ডিজিটাল ডিভাইস এবং আর্থিক নথি পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। বাড়ির একাধিক কক্ষেও তল্লাশি চালানো হয়। ইডির আধিকারিকরা বাড়ির সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন বলে জানা গিয়েছে। তদন্তে কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা নথি উদ্ধার হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
কান্দি শহরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলি দাবি করেছে, দুর্নীতির অভিযোগে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। অন্যদিকে শাসকদলের একাংশের বক্তব্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তীব্র হয়েছে।













