
কলকাতা: লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থা ও কালীঘাটের শান্তিনিকেতন আবাসের বেআইনি নির্মাণ নিয়ে পুরসভার ডেডলাইনের মধ্যেই চরম নাটকীয়তা। একদিকে ২৫ মে ভরদুপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পুলিশি হানা ও সিকিউরিটি মনিটর বাজেয়াপ্ত করার ঘটনা, অন্যদিকে এবার আদালতের দ্বারস্থ হলেন অভিষেক-পত্নী। বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের কড়া নাড়লেন রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায় নারুলা। এর আগে আদালতের অনুমতি ছাড়া তাঁর দেশ ছাড়ার ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। সেই স্থগিতাদেশ তুলতেই নতুন করে হাইকোর্টে আবেদন করলেন তিনি। আগামী শুক্রবার বিচারপতি পার্থসারথি সেনের এজলাসে এই হাই-প্রোফাইল মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
ডিভিশন বেঞ্চের নিষেধাজ্ঞায় আটকে উড়ান
আইনি জটিলতার সূত্রপাত গত ২ মে। সেদিন বিচারপতি কৃষ্ণ রাও রুজিরাকে বিদেশ যাওয়ার ছাড়পত্র দিলেও, পরবর্তীতে হাইকোর্টেরই অন্য একটি বেঞ্চ তাঁর বিদেশযাত্রার ওপর কড়া লকগেট লাগিয়ে দেয়। সাফ জানানো হয়, আদালতের সবুজ সংকেত ছাড়া তিনি দেশের বাইরে পা রাখতে পারবেন না। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই শুক্রবার বিচারপতি পার্থসারথি সেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন রুজিরার আইনজীবী। আদালত মামলাটি গ্রহণের অনুমতি দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, রুজিরার এই বিদেশযাত্রার আবেদনের সঙ্গে খোদ ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশ সফর বা চিকিৎসার যোগসূত্র থাকতে পারে, যদিও আইনজীবীরা এই নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন।
সুরক্ষা পেলেও কাটেনি বিদেশযাত্রার খাঁড়া
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবারই বিধাননগর সাইবার থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ২৯ জুলাই পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন আইনি সুরক্ষা দিয়েছিল আদালত। তবে সেই শুনানির মাঝেই ধাক্কা আসে অন্য দিক থেকে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বিদেশযাত্রার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ফলে স্বামী ও স্ত্রী, দুজনেরই দেশের বাইরে যাওয়ার ওপর এখন আদালতের কড়া নজরদারি।
২৫ মে কালীঘাটের ডেরায় পুলিশ ও মনিটর-রহস্য
এদিকে, ২৫ মে বিকেলে অভিষেকের হরিশ মুখার্জি রোডের বাসভবনে আচমকা কলকাতা পুলিশের একটি দল পৌঁছানোয় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। বিকেল পৌনে চারটে নাগাদ সাদা পোশাকের গোয়েন্দা ও পুলিশ আধিকারিকরা সেখানে যান। বাইরে তখন বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন। জানা গিয়েছে, নতুন রাজ্য প্রশাসনের নির্দেশে অভিষেকের সিকিউরিটি প্রোটোকল কাটছাঁট এবং সিসিটিভি (CCTV) ব্যবস্থা অডিট করতেই এই ভিজিট। তবে শোরগোল বাড়িয়েছে অন্য একটি দৃশ্য। প্রায় এক ঘণ্টা ভেতরে থাকার পর, এক পুলিশ আধিকারিককে গেটের সিকিউরিটি স্ক্যানারের সঙ্গে যুক্ত একটি কম্পিউটার মনিটর বার করে নিয়ে গাড়িতে তুলতে দেখা যায়।
একদিকে পুরসভার তাড়া, অন্যদিকে বাড়ির ভেতরে পুলিশের প্রবেশ এবং এখন রুজিরার বিদেশযাত্রার নতুন আইনি লড়াই— সব মিলিয়ে কালীঘাটের অন্দরমহলে এখন অস্বস্তির মেঘ। আগামী শুক্রবার আদালত রুজিরাকে ফ্লাইটের টিকিট কাটার অনুমতি দেয় নাকি নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।












