
কলকাতা: চাকরি, রেশন, আবাস কিংবা পুর নিয়োগের পর এবার দুর্নীতির তালিকায় জুড়ল স্কুলের পোশাকও? বিগত তৃণমূল জমানার একাধিক কেলেঙ্কারির খতিয়ান যখন ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে, ঠিক তখনই বাম্পার ক্ষোভ প্রকাশ করলেন নতুন বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের দেওয়া ইউনিফর্মে অত্যন্ত নিম্নমানের কাপড় ব্যবহারের অভিযোগে সোমবারের হাই-প্রোফাইল প্রশাসনিক বৈঠকে রীতিমতো ফেটে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। গুণমান যাচাই না করেই কীভাবে বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকার বরাত পাইয়ে দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এই গোটা বস্ত্র-কেলেঙ্কারির নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা খুঁজে বের করতে ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু।
সচিবদের মেগা ক্লাসে তীব্র ভর্ৎসনা, কাঠগড়ায় দুই দফতর
সোমবার নবান্নে সমস্ত দফতরের সচিব পর্যায়ের শীর্ষ আমলাদের নিয়ে এক ম্যারাথন বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, সেই বৈঠকেই স্কুলের ইউনিফর্মের গুণগত মান নিয়ে ওঠা ভুরি ভুরি অভিযোগের ফাইল টেবিল করেন তিনি। এই বিষয়ে খোদ বস্ত্র এবং অর্থ দফতরকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানতে চান, আগে যে স্কুল ইউনিফর্মগুলো তৈরি করে দেওয়া হতো, সেগুলোর কোয়ালিটি কন্ট্রোল বা গুণগত মান কেন সঠিকভাবে অডিট করা হয়নি? কাকে, কোথায় এবং কোন প্রভাবশালী মহলের সুপারিশে এই কোটি কোটি টাকার বরাত পাইয়ে দেওয়া হতো, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছেন তিনি।
সাইজের গোলমাল থেকে ছেঁড়া কাপড়, কড়া দাওয়াই নবান্নের
বিগত জমানায় স্কুলের পোশাক নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। কোনও পড়ুয়ার ক্ষেত্রে সাইজের অমিল, তো কোথাও অত্যন্ত নিম্নমানের কাপড় ব্যবহারের ফলে কয়েকদিনের মধ্যেই পোশাক ছিঁড়ে যাওয়ার মতো চরম হয়রানির শিকার হতে হতো স্কুলছাত্রদের। শুভেন্দুর প্রশ্ন, অর্থ দফতর গুণগত মান যাচাই না করেই কীভাবে এই খামখেয়ালি প্রজেক্টে দিনের পর দিন সরকারি টাকা বরাদ্দ করে গেল? এবার সেই নিয়মে কড়া লক লাগাল নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভবিষ্যতে ইউনিফর্মের গুণগত মান ১০০ শতাংশ যাচাইয়ের পরই মিলবে অর্থ দফতরের ছাড়পত্র। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
১০০ দিনের কাজ ও ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে তৎপরতা
স্কুল ইউনিফর্মের পাশাপাশি এদিনের মেগা বৈঠকে কেন্দ্রের বকেয়া টাকা আদায় এবং উন্নয়নের গতি বাড়ানো নিয়েও একগুচ্ছ গাইডলাইন দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় বরাদ্দ আসা মাত্রই যাতে থমকে থাকা ১০০ দিনের কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু করা যায়, তার ব্লু-প্রিন্ট তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, দক্ষিণবঙ্গের দীর্ঘদিনের সমস্যা মেটাতে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন নিয়ে সেচ দফতরকে সরাসরি দিল্লির কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।












