Home Bharat ভারত-মার্কিন সম্পর্কে বক্তৃতা! ভারতীয় সাংবাদিকের বর্ণ বিদ্বেষ সংক্রান্ত প্রশ্নে বিব্রত রুবিও

ভারত-মার্কিন সম্পর্কে বক্তৃতা! ভারতীয় সাংবাদিকের বর্ণ বিদ্বেষ সংক্রান্ত প্রশ্নে বিব্রত রুবিও

marco-rubio-questioned-racism-against-indians-us

নয়াদিল্লি: মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর ভারত সফরের মাঝেই চাঞ্চল্য। (Marco Rubio)একটি যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতীয় সাংবাদিক সিন্ধান্ত সিব্বালের একটি প্রশ্ন তাঁকে একেবারে অপ্রস্তুত করে দিয়েছে। রুবিও যখন ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ইতিবাচক দিক নিয়ে কথা বলছিলেন, ঠিক তখনই সিধান্ত উঠে দাঁড়িয়ে আমেরিকায় ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বর্ণবৈষম্য ও বর্ণবাদী আক্রমণের বিষয়টি তুলে ধরেন। এই প্রশ্নের উত্তর দিতে মার্কো রুবিওকে স্পষ্টতই কিছুটা হতচকিত দেখা গেছে।

- Advertisement -

   

>

সাংবাদিক সম্মেলনে সিধান্ত জিজ্ঞাসা করেন, আমেরিকায় ভারতীয় ছাত্র ও পেশাদারদের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা বর্ণবাদী ঘটনা নিয়ে মার্কিন প্রশাসন কী পদক্ষেপ নিচ্ছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছু বিতর্কিত পোস্ট অনুমোদন করায় এই ইস্যু আরও সামনে এসেছে। রুবিও এই প্রশ্নের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলেন না বলেই মনে হয়েছে। তিনি কয়েক সেকেন্ড থেমে উত্তর দেন যে, আমেরিকা এখনও একটি অত্যন্ত স্বাগতমূলক দেশ।

আরও দেখুনঃ তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার জ্যাংড়ার পঞ্চায়েত প্রধান

তবে স্বীকার করেন যে, পৃথিবীর প্রতিটি দেশেই কিছু “বোকা মানুষ” থাকে যারা বৈষম্যমূলক আচরণ করে।রুবিও বলেন, “আমেরিকা অত্যন্ত স্বাগতমূলক দেশ, কিন্তু প্রত্যেক দেশেই কিছু মূর্খ মানুষ থাকে যারা এমন কাজ করে।” তাঁর এই উত্তরকে অনেকে কিছুটা এড়িয়ে যাওয়া বলে মনে করছেন। ভারতীয়দের বিরুদ্ধে আমেরিকায় সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি বর্ণবাদী হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়া, নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন জায়গায় ভারতীয় ছাত্র ও আইটি পেশাদাররা লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন।

এসব ঘটনায় ভারতীয় সমাজে ক্ষোভ বেড়েছে।সিধান্তের এই প্রশ্নটি অনেকের কাছে ‘স্পষ্ট ও অনিবার্য’ বলে মনে হয়েছে। কারণ ভারত-মার্কিন সম্পর্ক যতই ঘনিষ্ঠ হোক, ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে আমেরিকায় লক্ষাধিক ভারতীয় ছাত্র পড়াশোনা করছেন এবং লক্ষ লক্ষ ভারতীয় পেশাদার কাজ করছেন। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দুই দেশের সম্পর্কের জন্য জরুরি।ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

অনেকে সিধান্তের প্রশ্নের প্রশংসা করেছেন। কেউ কেউ বলছেন, “রুবিওকে একেবারে অপ্রস্তুত করে দিয়েছে প্রশ্নটা।” আবার কেউ কেউ মনে করছেন, কূটনৈতিক স্তরে এমন প্রশ্ন তোলা উচিত, কারণ সম্পর্কের মধ্যে অসুবিধাগুলোও সামনে আনতে হয়। রুবিওয়ের উত্তরে সন্তুষ্ট না হয়ে অনেক ভারতীয় নেটিজেন আরও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

এই ঘটনা ভারত-মার্কিন সম্পর্কের একটি সংবেদনশীল দিককে তুলে ধরেছে। দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও কোয়াডের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ছে। কিন্তু মানুষ-মানুষ সম্পর্কে যদি বর্ণবাদের মতো সমস্যা থেকে যায়, তাহলে সম্পর্কের গভীরতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। ভারত সরকারও এই বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের কাছে বারবার উদ্বেগ জানিয়েছে।

Follow on Google