
নয়াদিল্লি ও কলকাতা: সাধারণ মানুষের পকেটে আবার বড়সড় কোপ! আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম এবং পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আবহে শনিবার দেশজুড়ে ফের বাড়ল পেট্রোল ও ডিজেলের দাম। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার লিটার প্রতি পেট্রোলের দাম বেড়েছে ৮৭ পয়সা এবং ডিজেলের দাম বেড়েছে ৯১ পয়সা। চলতি মে মাসে এই নিয়ে তৃতীয়বার জ্বালানির দাম ঊর্ধ্বমুখী হলো। নতুন এই দাম বৃদ্ধির পর কলকাতায় লিটার প্রতি পেট্রোলের দাম ১১০ টাকা এবং ডিজেল ৯৭ টাকা পার করে গিয়েছে। (Petrol and diesel prices rise again in India amid crude oil surge)
চলতি মাসেই প্রায় ৫ টাকা বাড়ল জ্বালানি, মেট্রো শহরগুলির নয়া দর
শনিবারের এই নতুন দাম বৃদ্ধির পর দেশের চার প্রধান মেট্রো শহর-সহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতে পেট্রোল ও ডিজেলের নতুন দামের তালিকা নিচে দেওয়া হল-
কলকাতা: পেট্রোল ১১০.৬৪ টাকা (+০.৮৭) | ডিজেল ৯৭.০২ টাকা (+০.৯১)
দিল্লি: পেট্রোল ৯৯.৫১ টাকা (+০.৮৭) | ডিজেল ৯২.৪৯ টাকা (+০.৯১)
মুম্বই: পেট্রোল ১০৮.৪৯ টাকা (+০.৮৭) | ডিজেল ৯৫.০২ টাকা (+০.৯১)
চেন্নাই: পেট্রোল ১০৫.৩১ টাকা (+০.৮৭) | ডিজেল ৯৬.৯৮ টাকা (+০.৯১)
গুরুগ্রাম: পেট্রোল ১০০.৩৮ টাকা (+০.৮৭) | ডিজেল ৯২.৯২ টাকা (+০.৯১)
নয়ডা: পেট্রোল ৯৮.৭৮ টাকা (+০.৮৭) | ডিজেল ৯৩.১২ টাকা (+০.৯১)
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৬ মে বিভিন্ন শহরে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম একধাক্কায় প্রায় ৩ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তার ঠিক পরেই ১৯ মে ফের মেট্রো শহরগুলিতে ৯০ পয়সা করে বাড়ে জ্বালানি। আর শনিবারের বৃদ্ধির পর গত কয়েকদিনের ব্যবধানে দেশজুড়ে তেলের দাম প্রায় ৫ টাকা বেড়ে গেল।
খাবারের দাম বাড়ার আশঙ্কা, দোসর সিএনজি-র ছ্যাঁকা
টানা এই জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহণ ও লজিস্টিকস খরচ অনেকটাই বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর তার জেরে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং শাকসবজি ও খাদ্যসামগ্রীর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। পেট্রোল-ডিজেলের পাশাপাশি মধ্যবিত্তের চিন্তা বাড়িয়ে দিল্লিতে সিএনজি (CNG)-র দামও কেজিতে ১ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে রাজধানী ও সংলগ্ন এলাকায় সিএনজি-র নতুন দাম হয়েছে ৮১.০৯ টাকা প্রতি কেজি।
সরবরাহ পর্যাপ্ত, ‘প্যানিক বায়িং’ না করার আর্জি মন্ত্রকের
তেলের বাজারে এই আগুন লাগার ঠিক আগের দিনই কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের তরফে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছিল যে, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে পেট্রোল ও ডিজেলের স্টক রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে মন্ত্রক একটি বার্তায় জানায়, “দেশজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। নাগরিকরা দয়া করে আতঙ্কিত হয়ে বেশি তেল মজুত (Panic Buying) করবেন না। কেবল নিজের প্রয়োজনটুকুই কিনুন।”
নেপথ্যে বিশ্ব রাজনীতি ও হরমুজ প্রণালীর মেঘ
সরকারি আধিকারিকদের দাবি, ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে ঘরোয়া বাজারেও দাম বাড়াতে বাধ্য হয় তেল সংস্থাগুলি। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz)-তে যুদ্ধজনিত কারণে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আপাতত আকাশছোঁয়া। আর তার সরাসরি মাশুল গুনতে হচ্ছে আজকের ভারতীয় আমজনতাকে।













