নয়াদিল্লি: দেশের সশস্ত্র বাহিনীর অপারেশনাল বিষয়াদি ফাঁস হতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে আসন্ন সিনেমা ‘ধুরন্ধর ২’-এর বিরুদ্ধে (Dhurandhar 2)। দিল্লি হাইকোর্ট এই অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে এ বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে। সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)-র এক কনস্টেবলের দায়ের করা পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশন (পিআইএল)-এর ভিত্তিতে আদালত এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
পিআইএলকারী এসএসবি কনস্টেবল অভিযোগ করেছেন যে সিনেমাটিতে সেনাবাহিনী, আধা-সামরিক বাহিনী এবং বিশেষ অভিযানের এমন সব খুঁটিনাটি তথ্য দেখানো হয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তিনি বলেছেন, ছবিতে বাস্তব অপারেশনের কৌশল, সীমান্ত এলাকার সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং গোপন কার্যপদ্ধতি এতটাই বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে যে শত্রুপক্ষ এগুলো দেখে সুবিধা নিতে পারে।
আরও দেখুনঃ বাংলাদেশ থেকে হামলার ছক! গুরুগ্রামে কসমেটিক সার্জারি করাই কাল হল লস্কর জঙ্গির
এতে দেশের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি শুনানিকালে কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবীকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, “এই অভিযোগগুলো গুরুতর। আপনারা বিষয়টি যথাযথভাবে পর্যালোচনা করে আদালতে জানান।” আদালত আরও জানতে চেয়েছে যে সিনেমাটির সেন্সর বোর্ড কোন প্রক্রিয়ায় ছাড়পত্র দিয়েছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার দিকটি যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা হয়েছে কি না।‘ধুরন্ধর ২’ সিনেমাটি একটি অ্যাকশন-থ্রিলার হিসেবে প্রচারিত হচ্ছে।
প্রথম পর্বের সাফল্যের পর দ্বিতীয় পর্বে আরও বড় অ্যাকশন সিকোয়েন্স এবং সীমান্তের গল্প দেখানো হয়েছে। ছবির টিম অবশ্য এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে চলচ্চিত্র জগতের কিছু ব্যক্তি বলছেন, এটি শুধুমাত্র বিনোদনের জন্য নির্মিত। বাস্তব ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হলেও এতে কোনো গোপন তথ্য ফাঁস করা হয়নি।অন্যদিকে প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা পিআইএলকারীর উদ্বেগকে সমর্থন করেছেন।
তাঁদের মতে, আজকের ডিজিটাল যুগে সিনেমা বা ওয়েব সিরিজের মাধ্যমে যদি অপারেশনাল কৌশল প্রকাশ্যে চলে আসে, তাহলে শত্রুরা সহজেই তা বিশ্লেষণ করতে পারে। অনেকে বলছেন, দেশপ্রেমের গল্প বলতে গিয়ে যেন জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ণ না হয়। কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক এবং সিনেমা সার্টিফিকেশন বোর্ড এখন এই বিষয়ে রিপোর্ট তৈরি করছে।




















