নয়াদিল্লি: দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের এক অভিযানে লশকর-ই-তৈবার (LeT) একজন সক্রিয় অপারেটিভ গ্রেফতার হয়েছে (Shabbir Ahmed)। নাম শব্বির আহমেদ লোন। বাংলাদেশ থেকে ভারতে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন তিনি। কিন্তু গ্রেফতারের পর যে তথ্য উঠে এসেছে, তা চমকে দিয়েছে সবাইকে। শুধু সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডই নয়, নিজের চেহারা পাল্টে ফেলতে গুরুগ্রামে কসমেটিক সার্জারিও করিয়েছিলেন এই লশকর জঙ্গি। আর তাতেই হল কাল।
সূত্র জানিয়েছে, শব্বির আহমেদ লোন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় হামলার ছক কষছিলেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল দেশের অভ্যন্তরে স্লিপার সেল সক্রিয় করা এবং বড় ধরনের সন্ত্রাসবাদী ঘটনা ঘটানো। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল তাঁর গতিবিধির উপর নজরদারি চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে যে তিনি নিজের চেহারা বদলে ফেলার জন্য গুরুগ্রামের একটি নামকরা কসমেটিক ক্লিনিকে গিয়েছিলেন।
আরও দেখুনঃ ‘দেশে বিষ ছড়ানো ছাড়া বিজেপির আর কোনও এজেন্ডা নেই!’ মত মেহবুবার
সেখানে নাক, চোখের আকৃতি এবং অন্যান্য ফেসিয়াল ফিচার্স বদলানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন তিনি। উদ্দেশ্য ছিল সহজে ভারতের বিভিন্ন শহরে ঘুরে বেড়ানো এবং নিরাপত্তা বাহিনীর চোখ এড়ানো।পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, শব্বিরের এই পদক্ষেপ দেখে বোঝা যায় জঙ্গি সংগঠনগুলো এখন কতটা পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। শুধু অস্ত্র বা বিস্ফোরক নয়, চেহারা বদলানোর মতো আধুনিক কৌশলও তারা ব্যবহার করছে। শব্বির পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
বাংলাদেশকে বেস করে তিনি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে লোকজন নিয়োগ এবং অর্থ সরবরাহের কাজও করছিলেন।গুরুগ্রামের ক্লিনিক সূত্রে জানা গেছে, শব্বির নিজেকে সাধারণ ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। চিকিৎসার সময় তিনি কয়েকদিন ক্লিনিকের আশেপাশে থেকেছেন। সার্জারির পর নতুন চেহারা নিয়ে তিনি আরও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এখন জুটছে পুলিশি দাওয়াই। এখন তাঁর বিরুদ্ধে ইউএপিএ-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা দেখিয়ে দেয় যে জঙ্গিরা এখন শুধু সীমান্ত পেরিয়ে আসছে না, বরং বাংলাদেশের মতো দেশকে ঘাঁটি বানিয়ে কাজ করছে। শব্বিরের মতো অপারেটিভরা প্রযুক্তি এবং চিকিৎসা সুবিধা ব্যবহার করে নিজেদের লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। দিল্লি পুলিশের এই অভিযানকে সফল বলে মনে করা হচ্ছে কারণ এতে শুধু একজন জঙ্গি ধরা পড়েনি, বরং একটি বড় নেটওয়ার্কের সূত্রও পাওয়া গেছে।



















